বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ফুটবল ইতিহাসের অন্ধকার রাত: জিদানের সেই ঢুঁশ ও বিদায়

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২১, ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম

ফুটবল ইতিহাসের অন্ধকার রাত: জিদানের সেই ঢুঁশ ও বিদায়

২০০৬ সালের ৯ জুলাই বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়াম সাক্ষী হয়েছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় এক মুহূর্তের। ফ্রান্স ও ইতালির মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনালটি কেবল একটি শিরোপার লড়াই ছিল না, এটি ছিল ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। পুরো বিশ্ব তাকিয়ে ছিল তাদের প্রিয় ‍‍`জিজু‍‍`-র রাজকীয় বিদায় দেখার অপেক্ষায়।মাত্র ৭ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দিয়েছিলেন জিদান।

তবে ইতালির ডিফেন্ডার মার্কো মাতেরাজ্জির গোলে দ্রুতই সমতায় ফেরে ইতালি। ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১-১ সমতায় চলা ম্যাচের ১১০তম মিনিটে মাঠের দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। ইতালির পেনাল্টি বক্সের সামনে ইতালিয়ান ডিফেন্ডার মার্কো মাতেরাজ্জির সঙ্গে জিদানের কথার কাটাকাটি শুরু হয়। মাতেরাজ্জি জিদানের জার্সি টেনে কোনো মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।হঠাৎ জিদান ঘুরে দাঁড়ান এবং ক্ষিপ্র গতিতে মাতেরাজ্জির বুকে মাথা দিয়ে প্রচণ্ড ধাক্কা বা ‍‍`ঢুঁশ‍‍` মারেন।

সঙ্গে সঙ্গে মাঠের রেফারি ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ না করলেও, ফোর্থ অফিসিয়াল লুইস মেদিনা কান্তালেজো তা ভিডিওতে দেখে ফেলেন। রেফারি হোরাসিও এলিজোন্দো কোনো দ্বিধা ছাড়াই জিদানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন। ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত লাল কার্ডটির দৃশ্য আজও ফুটবল সমর্থকদের মনে গেঁথে আছে।

মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সময় জিদানের ট্রফিটির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার মুহূর্তটি ছিল ট্র্যাজিক।

পুরো বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলে ‍‍`গোল্ডেন বল‍‍` জেতা জিদান মাঠ ছাড়ার পর ফ্রান্স মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ইতালি ৫-৩ ব্যবধানে শিরোপা জিতে নেয়। ফিফার তদন্তে মাতেরাজ্জিকে জরিমানা ও নিষিদ্ধ করা হয়, তবে জিদানের বিদায়টি চিরকাল ফুটবল ইতিহাসের এক ট্র্যাজিক কাব্য হয়ে রইল।

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে নায়ক-খলনায়কের এই দ্বন্দ্ব আজও আলোচনার তুঙ্গে।

banner
Link copied!