যুক্তরাজ্যের নটিংহ্যামে ১৯৭৬ সালে জন্ম নেওয়া দুই যমজ বোন মিশেল এবং লাভিনিয়া অসবর্ন। জন্মের পর থেকে তারা জানতেন তারা অভিন্ন গর্ভের যমজ সন্তান। কিন্তু প্রায় ৪৯ বছর পর একটি সাধারণ ডিএনএ টেস্ট তাদের সামনে নিয়ে এসেছে এক অবিশ্বাস্য ও বিরল সত্য। ল্যাব রিপোর্টে দেখা গেছে, এই দুই বোনের মা একজন হলেও তাদের বাবা আলাদা। বিজ্ঞানের ভাষায় অত্যন্ত বিরল এই ঘটনাকে বলা হয় `হেটেরোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন` (Heteropaternal Superfecundation)।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে, যখন লাভিনিয়া কৌতূহলবশত বাড়িতে বসেই একটি ডিএনএ পরীক্ষার কিট ব্যবহার করেন। পরীক্ষার ফলাফল আসার পর তিনি স্তব্ধ হয়ে যান। লাভিনিয়া জানান, মিশেল ছিল তার শৈশবের একমাত্র নির্ভরতা। তারা দুজনেই অত্যন্ত কঠিন শৈশব পার করেছেন, যেখানে মা ছিলেন প্রায় অনুপস্থিত এবং তাদের বিভিন্ন পালক ঘরে বড় হতে হয়েছে। সেই নিঃসঙ্গ জীবনে লাভিনিয়া বিশ্বাস করতেন মিশেলই তার একমাত্র আপন সত্তা। কিন্তু ডিএনএ রিপোর্ট বলছে তারা আসলে সৎ বোন।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, একজন নারীর ডিম্বস্ফোটন চক্রের একই সময়ে যদি একাধিক ডিম্বাণু উৎপন্ন হয় এবং সেই ডিম্বাণুগুলো যদি আলাদা আলাদা পুরুষের শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়, তবেই এমন যমজ সন্তান জন্ম নেওয়া সম্ভব। বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত এমন মাত্র ২০টি ঘটনার নথিপত্র পাওয়া গেছে। বিবিসি রেডিও ফোর-এর অনুসন্ধান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে মিশেল এবং লাভিনিয়াই প্রথম দম্পতি যাদের এমন বিরল যমজ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
তাদের মা যখন তাদের জন্ম দেন তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। তার জীবন ছিল অত্যন্ত অগোছালো এবং তিনি নিজেও শৈশবে নির্যাতনের শিকার হয়ে বড় হয়েছেন। সন্তানদের তিনি সবসময় বলে এসেছেন তাদের বাবার নাম `জেমস`। তবে বড় হওয়ার পর মিশেল লক্ষ্য করেন যে জেমসের চেহারার সাথে তার কোনো মিল নেই। অন্যদিকে লাভিনিয়া জেমসের চেহারায় নিজের প্রতিফলন খুঁজে পেতেন। এই সন্দেহ থেকেই মিশেল দীর্ঘদিন ধরেই জানতেন জেমস তার বাবা নন, তবে তিনি কখনোই ভাবেননি লাভিনিয়ার বাবা জেমস হতে পারেন।
বর্তমানে তাদের মায়ের স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়া রোগ হওয়ায় তিনি আর এই বিষয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন না। তবে এই সত্য সামনে আসার পর লাভিনিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও মিশেল বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। মিশেল বলেন, "আমি অবাক হইনি। আমাদের চেহারার অমিল সবসময়ই একটা প্রশ্ন ছিল। এখন অন্তত আমাদের কাছে সত্যটি পরিষ্কার।" বিরল এই জৈবিক ঘটনাটি কেবল বিজ্ঞানীদের নয়, সাধারণ মানুষকেও হতবাক করে দিয়েছে।
