আমরা এমন এক সমাজে বাস করি যেখানে সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি হলো টাকা-পয়সা। ফলে রিযিক বলতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিলাসবহুল গাড়ি, বাড়ি আর মোটা অংকের ব্যাংক ব্যালেন্স। কিন্তু রিযিকের এই সংকীর্ণ সংজ্ঞা আমাদের জীবনে বয়ে আনে চরম হতাশা ও অস্থিরতা।
রিযিক মূলত এমন সব কিছুর সমষ্টি যা আমাদের জীবনকে সচল রাখে এবং আত্মিক প্রশান্তি দান করে।রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রিযিকের প্রকৃত স্বরূপ বুঝিয়ে দিয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজ ঘরে নিরাপদ অবস্থায় সকাল করল, যার শরীর সুস্থ এবং যার কাছে অন্তত এক বেলার খাবার আছে, সে যেন গোটা দুনিয়ার সম্পদের মালিক হলো (সুনানে তিরমিযী, ২৩৪৬)। এই হাদিসটি রিযিকের তিনটি অটল স্তম্ভ প্রতিষ্ঠা করে—নিরাপত্তা, সুস্থতা এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজন পূরণ।
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে যা কোটি টাকা খরচ করেও পাওয়া সম্ভব নয়, সেই শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক শান্তিই হলো আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠতম রিযিক।
রিযিকের আসল শক্তি এর পরিমাণে নয়, বরং এর `বারাকাহ` বা বরকতের মধ্যে নিহিত। শান্তিময় ঘুম, নেক সন্তান, ধার্মিক জীবনসঙ্গী এবং নিয়মিত ইবাদত করার সুযোগ পাওয়াও আল্লাহর বিশেষ রিযিক।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ওয়াদা করেছেন যে, বান্দা যদি তাঁর দেওয়া ছোট-বড় সকল নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে, তবে তিনি তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন (সূরা ইবরাহীম, ১৪:৭)। তাই আপনার রিযিকের মাপকাঠি আজই পরিবর্তন করুন।
নিজের চেয়ে নিচে থাকা মানুষদের দিকে তাকিয়ে যখন আপনি `আলহামদুলিল্লাহ` বলতে শিখবেন, তখনই আপনার হৃদয়ে `সাকীনাহ` বা অপার্থিব শান্তি নেমে আসবে।
