নেতিবাচক সমালোচনা এবং অন্যের সফলতায় ঈর্ষান্বিত হওয়ার প্রবণতা একজন ব্যক্তির নিজস্ব অযোগ্যতার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিদরা, ডেইলি স্টারের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমন মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যারা গঠনমূলক কাজের পরিবর্তে অন্যের দোষত্রুটি খুঁজতে ব্যস্ত থাকেন, তারা মূলত নিজেদের সৃজনশীল অক্ষমতা ঢাকতেই এমন পথ বেছে নেন। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রসারের ফলে এই প্রবণতা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে এবং এটি সামাজিক অস্থিরতার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে যারা নিজেরা বড় কোনো অর্জনে ব্যর্থ হন, তারা অন্যের ছোটখাটো ভুলকে বড় করে দেখিয়ে এক ধরণের সাময়িক মানসিক প্রশান্তি পাওয়ার চেষ্টা করেন।
প্রথম আলোর একটি জীবনধর্মী নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে ঈর্ষাকাতর ব্যক্তিরা অন্যের ভালো কোনো কাজ সহ্য করতে পারেন না কারণ সেটি তাদের নিজেদের সীমাবদ্ধতাকে আয়নার মতো সামনে নিয়ে আসে। এই ধরণের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কেবল ব্যক্তির মানসিক বিকাশই বাধাগ্রস্ত করে না, বরং পুরো সমাজের কর্মস্পৃহা কমিয়ে দেয়।
ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও অন্যের প্রতি অমূলক সমালোচনা ও মন্দ ধারণা পোষণ করাকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে মুমিনদের এই ধরণের আচরণ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন (সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:১২)।
আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক ইসলামিক গবেষক সামাজিক সংহতি বজায় রাখার জন্য গীবত ও অপ্রয়োজনীয় সমালোচনা পরিহারের ওপর জোর দিচ্ছেন। সহীহ বুখারীর একটি হাদীসে উল্লেখ আছে যে একজন প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে (সহীহ আল-বুখারী, ১০)।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে এই সমস্যা থেকে উত্তরণের প্রধান উপায় হলো নিজের কাজের দিকে মনোনিবেশ করা এবং অন্যের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হওয়া। অন্যের ভালো কাজ দেখে যারা সমালোচনা করেন, তারা আসলে নিজেদের উন্নতির পথটিই রুদ্ধ করে ফেলেন।
সফল ব্যক্তিরা সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে তাদের লক্ষ্যপানে এগিয়ে যান বলেই তারা অন্যদের থেকে আলাদা হতে পারেন। শেষ পর্যন্ত যারা কেবল সমালোচনাই করে যান, তারা ইতিহাসের পাতায় কোনো চিহ্ন রেখে যেতে পারেন না।
