রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

তাহাজ্জুদ নামাজের অভাবনীয় ফজিলত ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

তাহাজ্জুদ নামাজের অভাবনীয় ফজিলত ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব

শেষ রাতের নীরব ইবাদত

পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ নফল ইবাদত হলো তাহাজ্জুদ নামাজ। গভীর রাতে ঘুমের মায়া ত্যাগ করে স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের এই প্রক্রিয়াকে মুমিনের আধ্যাত্মিক উন্নতির শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় রাসূল (সা.)-কে এই বিশেষ ইবাদত পালনের নির্দেশ দিয়ে এর গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন (সূরা আল-ইসরা, ১৭:৭৯)। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা ও অস্থিরতার মাঝে মানসিক প্রশান্তি এবং জীবনের লক্ষ্য স্থির করতে তাহাজ্জুদ নামাজের কার্যকারিতা নিয়ে অনেক ইসলামি স্কলার বর্তমান সময়ে নতুন করে গুরুত্বারোপ করছেন।

তাহাজ্জুদ নামাজের মূল সময় হলো এশার নামাজের পর থেকে শুরু করে ফজর হওয়ার আগ পর্যন্ত। তবে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ হলো এই ইবাদতের জন্য সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সময়। সহীহ হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, রাতের এই শেষ ভাগে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং বান্দার প্রার্থনা শোনার জন্য ডাক দিতে থাকেন (সহীহ আল-বুখারী, ১১৪৫)। 

এই সময় দুআ কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে বলে জানানো হয়েছে। যারা নিয়মিত এই নামাজ আদায় করেন, তাদের চেহারায় এক ধরণের নূর বা জ্যোতি প্রকাশ পায় এবং তারা চারিত্রিকভাবে অনেক বেশি দৃঢ় ও সংযমী হয়ে ওঠেন।

সাধারণত দুই রাকাত করে নফল নামাজের মতো এই ইবাদত করা হয়, তবে কমপক্ষে দুই রাকাত এবং সর্বোচ্চ বারো রাকাত পর্যন্ত পড়ার বর্ণনা পাওয়া যায়। নামাজের পর দীর্ঘ সময় নিয়ে আল্লাহর কাছে নিজের অভাব ও পাপের ক্ষমা চাইলে তা কবুল হওয়ার জোরালো আশা করা যায়।

 সহীহ মুসলিমের এক বর্ণনায় এসেছে, ফরজ নামাজের পর শ্রেষ্ঠ নামাজ হলো রাতের এই নামাজ বা তাহাজ্জুদ (সহীহ মুসলিম, ৭৫৮)। এটি কেবল পরকালীন মুক্তি নয়, বরং দুনিয়াবী কঠিন বিপদ থেকেও রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।

অনেকের জন্য শেষ রাতে ঘুম থেকে ওঠা কঠিন মনে হলেও অভ্যাসের মাধ্যমে এটি সহজ করা সম্ভব। ইসলামি গবেষকরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, রাতে দ্রুত ঘুমানোর অভ্যাস এবং ঘুমানোর আগে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করলে তাহাজ্জুদে ওঠা সহজ হয়। 

নীরব নিস্তব্ধ রাতে যখন পৃথিবী ঘুমে মগ্ন থাকে, তখন স্রষ্টার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মন খুলে কথা বলা একজন মানুষের মানসিক চাপ বা ডিপ্রেশন কমাতেও সাহায্য করে। তাই কেবল সংকট বা প্রয়োজনে নয়, বরং নিয়মিত অভ্যাস হিসেবে তাহাজ্জুদ নামাজ হতে পারে একজন মুমিনের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রধান শক্তি।

banner
Link copied!