পবিত্র ঈদুল আযহা ২০২৬ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে মুসলিম উম্মাহর মাঝে কুরবানির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ইসলামি শরিয়তে কুরবানি কেবল একটি ধর্মীয় রীতি নয়, বরং এটি আল্লাহর প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও আনুগত্য প্রকাশের এক অনন্য মাধ্যম। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন, "আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না সেগুলোর গোশত এবং রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া" (সূরা আল-হাজ্জ, ২২:৩৭)।
এই আয়াতটি স্পষ্ট করে দেয় যে, কুরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো হৃদয়ের পবিত্রতা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলিমের ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব বা আবশ্যক।
কুরবানির ফজিলত সম্পর্কে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) অনেক সুসংবাদ দিয়ে গেছেন। সুনানে ইবনে মাজাহ ও তিরমিজি শরীফের বর্ণনা অনুযায়ী, কুরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি বা সওয়াব প্রদান করা হয়। সাহাবায়ে কেরাম যখন রাসূল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! পশমওয়ালা পশুদের ক্ষেত্রেও কি একই সওয়াব?" তিনি উত্তরে বললেন, "হ্যাঁ, পশমের প্রতিটি তন্তুর বিনিময়েও সওয়াব রয়েছে" (সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩১২৭)।
একজন মুমিনের জন্য এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে যে, তার উৎসর্গ করা পশুর অগুনতি পশমের সমপরিমাণ সওয়াব তার আমলনামায় যুক্ত হচ্ছে।
কুরবানির গুরুত্ব আরও ফুটে ওঠে রাসূল (সা.)-এর একটি কঠোর সতর্কবার্তার মাধ্যমে। তিনি বলেছেন, "যার সামর্থ্য আছে অথচ কুরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারে-কাছেও না আসে" (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ)। এটি প্রমাণ করে যে, সামর্থ্য থাকার পরও এই ইবাদত অবহেলা করা অত্যন্ত অপছন্দনীয় কাজ।
কুরবানির পশু কিয়ামতের দিন তার শিং, লোম এবং খুরসহ উপস্থিত হবে এবং এগুলো মিজানের পাল্লায় নেকির ওজন বৃদ্ধি করবে। ত্যাগের এই শিক্ষা আমাদের জীবনে ধৈর্য ও সহনশীলতার প্রতিফলন ঘটায়, যা হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই মহান আত্মত্যাগের স্মৃতি বহন করে।
তবে কুরবানির এই ফজিলত কেবল তখনই অর্জিত হবে যখন নিয়ত হবে সম্পূর্ণ খালেস বা বিশুদ্ধ। লোকদেখানো কুরবানি কিংবা দামী পশু কিনে আভিজাত্য প্রকাশের মানসিকতা থাকলে এই ইবাদত কবুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। বর্তমান সময়ে ২০২৬ সালের সম্ভাব্য চাঁদ দেখা অনুযায়ী মে মাসের শেষ সপ্তাহে ঈদুল আযহা উদযাপিত হতে পারে।
তাই এখনই আমাদের নিয়তকে পরিশুদ্ধ করা এবং হালাল উপার্জনের অর্থ দিয়ে কুরবানির প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। একটি সুন্দর ও সুস্থ পশু আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করার মাধ্যমে আমরা কেবল সওয়াবই অর্জন করি না, বরং সমাজের দরিদ্র মানুষের সাথে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাই।
