পবিত্র হজ্জ ২০২৬ পালনের উদ্দেশ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হজযাত্রীদের প্রথম কাফেলাগুলো সৌদি আরবে পৌঁছাতে শুরু করেছে বলে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকেই মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো অবতরণ করছে।
সৌদি হজ্জ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে এবারের হজ্জ ব্যবস্থাপনাকে আরও গতিশীল করতে এবং হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে।
এবারের হজ্জের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো উন্নত `নুসুক স্মার্ট কার্ড`, যা প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে এই কার্ডের মাধ্যমে হজযাত্রীরা তাদের আবাসন, পরিবহন এবং স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত সকল তথ্য ডিজিটালভাবে অ্যাক্সেস করতে পারবেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষ হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে এই কার্ড ছাড়া হজ্জের পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশাধিকার মিলবে না। বিশেষ করে অবৈধভাবে হজ্জ পালন রোধ করতে এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরদার করা হয়েছে।
চলতি বছরের হজ্জ মে মাসের শেষভাগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং এই সময়ে আরবের তাপমাত্রা বেশ চড়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থানগুলোতে হাজিদের জন্য ছায়া এবং পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের পাশাপাশি উন্নত কুলিং সিস্টেম বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে হাজিদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক মেডিকেল টিম এবং ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া সংক্রামক ব্যাধি রোধে নির্দিষ্ট কিছু টিকাদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে যা বিমানবন্দরগুলোতে যাচাই করা হচ্ছে।
মক্কার স্থানীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা গেছে যে কাবা চত্বর এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী সায়ি করার স্থানে ভিড় ব্যবস্থাপনায় এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে হাজিদের চলাচলের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে তাৎক্ষণিকভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
সৌদি সরকার আশা করছে যে ২০২৬ সালের এই হজ্জ মৌসুমে বিশ্বের প্রায় ২০ লাখের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশগ্রহণ করবেন। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে হজ্জের মূল স্থানগুলো পর্যন্ত হাজিদের সেবায় কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবী এবং নিরাপত্তা কর্মী দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
