কেয়ামতের আগে এই পৃথিবীতে ইমাম মাহদি (আ.)-এর আগমন একটি সুনিশ্চিত বিষয় এবং তাঁর আগমনের আগে বিশ্বের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে সে বিষয়ে সহিহ হাদিসে বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহর নবি (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ইমাম মাহদির আবির্ভাবের ঠিক আগ মুহূর্তে পুরো পৃথিবী এক চরম অস্থিরতা ও নৈতিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাবে। মূলত অনাচার এবং ন্যায়বিচারের অভাবই হবে সেই সময়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
সহিহ হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, ইমাম মাহদি আসার আগে এই পৃথিবী জুলুম, অন্যায় এবং অত্যাচারে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। (সুনানে আবু দাউদ, ৪২৮৫)। সেই সময়ে শাসকরা হবে নিষ্ঠুর এবং মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না।
কেবল রাজনৈতিক অস্থিরতাই নয়, বরং মানুষের নৈতিক চরিত্রেও বড় ধরণের ধস নামবে। আমানতদারিতা বা বিশ্বস্ততা সমাজ থেকে হারিয়ে যাবে এবং মানুষ তুচ্ছ কারণে একে অপরের রক্তপাতে লিপ্ত হবে। বিভিন্ন অঞ্চলে ঘনঘন ভূমিকম্প এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেবে বলে হাদিসের বর্ণনায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ধর্মীয় জ্ঞানের অভাব এবং ফিতনা বা বিশৃঙ্খলা সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলবে। এমন একটি সময় আসবে যখন মানুষ সকালে মুমিন থাকলেও বিকেলে কাফিরে পরিণত হবে। মুসনাদে আহমদের এক বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, মানুষের ওপর যখন অত্যন্ত কঠিন বিপদকাল অতিবাহিত হবে এবং যখন জুলুমের সীমা ছাড়িয়ে যাবে, ঠিক তখনই আল্লাহ তাআলা তাঁর খলিফা ইমাম মাহদিকে পাঠাবেন।
তিনি এসে এই পৃথিবীকে ঠিক সেভাবেই ইনসাফ ও ন্যায়বিচার দিয়ে ভরে দেবেন, যেভাবে তা আগে জুলুম দিয়ে ভরা ছিল। মূলত তাঁর আগমনের মাধ্যমেই পৃথিবীতে ইসলামী খেলাফতের পুনরুত্থান ঘটবে এবং বিশ্ববাসী দীর্ঘদিনের অন্ধকার কাটিয়ে নতুন আলোর মুখ দেখবে।
