রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

যে ৩ শ্রেণির মানুষের জন্য জান্নাত হারাম

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১২:৫৫ এএম

যে ৩ শ্রেণির মানুষের জন্য জান্নাত হারাম

পার্থিব জীবনের নশ্বরতা পেরিয়ে প্রতিটি মানুষকে পাড়ি দিতে হয় পরকালের চিরস্থায়ী ঠিকানায়। এই নশ্বর দুনিয়া কেবল একটি পরীক্ষাক্ষেত্র, আর এই যাত্রায় সফলতার একমাত্র মাপকাঠি হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং জাহান্নামের লেলিহান অগ্নিশিখা থেকে মুক্তি। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ইমরানের ১৮৫ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “যাকে জাহান্নামের আগুন থেকে দূরে রাখা হলো এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো, সেই সফলকাম।” কিন্তু এই চিরস্থায়ী শান্তিলাভ সবার ভাগ্যে জুটবে না। এমন কিছু পাপাচার রয়েছে যা মানুষের জান্নাতে প্রবেশের অধিকার কেড়ে নেয়। হাদিস শরিফের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের জন্য জান্নাত হারাম বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, পরকালে সফল হতে হলে মহান আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো পথ ও আদর্শ অনুসরণ করা অপরিহার্য। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, “বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো; আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।” (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ৩১)। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও হাদিস বিশ্লেষণে দেখা যায়, কিছু গুনাহ এমন ভয়াবহ যা একজন মুমিনকে জান্নাতের সুশীতল ছায়া থেকে বঞ্চিত করে। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত একটি নির্ভরযোগ্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “তিন ব্যক্তির জন্য আল্লাহ তাআলা জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন: মদ্যাসক্ত ব্যক্তি, পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান এবং দাইয়ুস।” (মিশকাত: ৩৬৫৫)।

প্রথমত, মদ্যাসক্ত ব্যক্তি অর্থাৎ যে ব্যক্তি সর্বদা নেশাগ্রস্ত থাকে বা নিয়মিত মাদক সেবন করে, তার জন্য জান্নাত হারাম। মাদক কেবল শরীরের ক্ষতি করে না, বরং এটি মানুষের বিবেক ও ঈমানকে ধ্বংস করে দেয়। ইসলামে মাদককে ‍‍`উম্মুল খাবায়েস‍‍` বা সকল পাপাচারের মূল বলা হয়েছে। যে ব্যক্তি নেশার ঘোরে থাকে, তার পক্ষে আল্লাহর ইবাদত বা হক আদায় করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। বর্তমান যুগে বিভিন্ন মরণঘাতী মাদক যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা কেবল দুনিয়ার ক্ষতি নয় বরং পরকালের জান্নাতকেও অনিশ্চিত করে তুলছে।

দ্বিতীয় শ্রেণি হলো পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান। যারা জন্মদাতার আদেশ অমান্য করে কিংবা তাদের মনে কষ্ট দেয়, তাদের ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। কুরআনের বহু স্থানে আল্লাহর ইবাদতের পরেই পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পিতা-মাতার সন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহর সন্তুষ্টি নিহিত। অথচ আধুনিক সমাজে বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে অবহেলা করা বা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা একটি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। হাদিসের এই কঠোর সতর্কবার্তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পিতা-মাতাকে অসন্তুষ্ট করে কোনোভাবেই জান্নাতের আশা করা সম্ভব নয়।

তৃতীয় এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণি হলো ‍‍`দাইয়ুস‍‍`। মুহাদ্দিসগণের মতে, দাইয়ুস হলো সেই ব্যক্তি যে তার পরিবারে পর্দার খেলাফ বা অশ্লীল কর্মকাণ্ড ও পাপাচার চলতে দেখেও কোনো প্রতিরোধ বা ব্যবস্থা নেয় না। অর্থাৎ তার স্ত্রী-সন্তান বা পরিবারের সদস্যদের বেহায়াপনা, অনৈতিক কাজ কিংবা বেপর্দায় চলাফেরা দেখেও যে পুরুষ উদাসীন থাকে এবং তাদের সংশোধন করার চেষ্টা করে না, সে-ই দাইয়ুস। ইসলাম পুরুষকে তার পরিবারের অভিভাবক বানিয়েছে এবং প্রতিটি অভিভাবককে তার অধীনস্তদের সম্পর্কে হাশরের ময়দানে জবাবদিহি করতে হবে। পরিবারের সদস্যদের পাপাচার থেকে রক্ষা করা একজন মুমিন পুরুষের প্রধান দায়িত্ব।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এই তিন প্রকার কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুমিনের জন্য বাধ্যতামূলক। পরকালীন মুক্তি ও জান্নাত লাভের প্রত্যাশায় মহান আল্লাহর আদেশের প্রতি অনুগত হওয়া এবং রাসুলের (সা.) সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মাধ্যমেই এই কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। জান্নাতের পথ যেমন অফুরন্ত শান্তির, তেমনি সেই পথে অবিচল থাকতে হলে এই অভিশপ্ত গুণাবলি থেকে নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে মুক্ত রাখতে হবে।

banner
Link copied!