পবিত্র হজ পালন নিয়ে বরাবরের মতোই কঠোর অবস্থান নিয়েছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। এবারের হজ মৌসুমে বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করলে বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে কাউকে হজে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ ৩২ লাখ টাকা বা এক লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই হুঁশিয়ারি জারি করেছে। মূলত হজের পবিত্রতা রক্ষা এবং নিবন্ধিত হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রিয়াদ।
সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে যারা ভিজিট ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন, তাদের হজের নিয়ম ভঙ্গ করে আবাসন বা অন্য কোনো সহায়তা প্রদান করলে এই বড় অংকের জরিমানা গুনতে হবে।
বিশেষ করে মক্কা বা হজের নির্ধারিত পবিত্র স্থানগুলোতে অবৈধভাবে কাউকে থাকতে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। হোটেল, অ্যাপার্টমেন্ট, ব্যক্তিগত মালিকানাধীন বাড়ি কিংবা যে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে যদি এমন কাউকে পাওয়া যায় তবে সংশ্লিষ্ট মালিক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে শুধু আশ্রয় দেওয়া নয় বরং অবৈধভাবে মক্কায় প্রবেশে সহায়তা করা, কাউকে লুকিয়ে রাখা বা যাতায়াতে সহযোগিতা করাও এই শাস্তির আওতায় পড়বে। যদি দেখা যায় একাধিক ব্যক্তি এই আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত, তবে জরিমানার পরিমাণ আনুপাতিক হারে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
আইন ভঙ্গকারী ব্যক্তি যদি প্রবাসী হন, তবে তাকে মোটা অংকের জরিমানা দেওয়ার পাশাপাশি জেল খাটতে হতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে দেশ থেকে বহিষ্কার বা ডি পোর্ট করার মতো কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
কর্তৃপক্ষ বলছে যে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষ ভিজিট ভিসা নিয়ে এসে হজের সময় মক্কায় থেকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এর ফলে নিবন্ধিত হজযাত্রীদের আবাসন, পরিবহন এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
এই বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সৌদি সরকার প্রতি বছরই নতুন নতুন প্রযুক্তি ও কঠোর আইন প্রয়োগ করছে। ২০২৬ সালের এই হজ মৌসুমে নিরাপত্তা বাহিনী মক্কার প্রবেশ পথগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাবে এবং ডিজিটাল পারমিট বা ‘নুসুক’ কার্ড ছাড়া কাউকে পবিত্র এলাকাগুলোতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
সৌদি নাগরিকদের পাশাপাশি প্রবাসীদের প্রতিও নিয়ম মেনে চলার বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো ধরনের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড বা অবৈধভাবে কাউকে অবস্থান করতে দেখলে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য নির্দিষ্ট জরুরি নম্বর দেওয়া হয়েছে।
মক্কা অঞ্চলের জন্য ৯১১ এবং রিয়াদসহ অন্যান্য অঞ্চলের জন্য ৯৯৯ বা ৯৯৬ নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য প্রদান করতে বলা হয়েছে। হজের এই পুরো সময় জুড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ ইউনিটগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন সৌদি সরকারের এই কঠোর অবস্থানের মূল কারণ হলো হজের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো। বিগত বছরগুলোতে অবৈধ হজযাত্রীদের কারণে সৃষ্ট ভিড়ে পদপিষ্ট হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আর কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় প্রশাসন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে হজ একটি পবিত্র ধর্মীয় বিধান এবং এর ভাবগাম্ভীর্য রক্ষায় প্রতিটি নাগরিক ও দর্শনার্থীর আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নিয়ম মেনে হজ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারলেই সকলের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
