রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’র মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৪

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম

তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতি’র মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৪

যুদ্ধবিরতি কি কেবল নামেই? গাজায় বাড়ছে মৃত্যু। ছবি : সংগৃহীত

গত বছরের অক্টোবরে নামমাত্র একটি ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি হলেও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলা থামেনি। রোববার উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে চালানো হামলায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। 

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্য গাজার আল-মুঘরাক গ্রামে বিমান হামলায় একজন এবং গাজা সিটির কাছে গোলাবর্ষণ ও গুলিতে আরও দুইজন প্রাণ হারান। এছাড়া দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ৪০ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নারী নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে তারা শুক্রবার থেকে গাজায় বেশ কয়েকজন হামাস যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। তবে এই দাবির সপক্ষে তারা কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। অন্যদিকে মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। 

গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খুদারি জানিয়েছেন যে কুয়েত মোড় এবং তথাকথিত নেটজারিম করিডোরের কাছে একটি কোয়াডকপ্টার ড্রোন থেকে চালানো গুলিতে তিন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। নেটজারিম করিডোর মূলত গাজার উত্তর ও দক্ষিণ অংশকে বিভক্ত করার জন্য ইসরায়েলিদের তৈরি একটি সামরিক অঞ্চল।

বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ভেতরে ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলদে রেখা নামক একটি সীমানা নির্ধারণ করে ধীরে ধীরে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার বিস্তার ঘটাচ্ছে। এই সামরিক পরিকল্পনার আওতায় গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা এখন সরাসরি ইসরায়েলিদের দখলে চলে গেছে। 

এর ফলে গাজার সাধারণ মানুষ, যাদের অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত, তারা এখন পশ্চিমের সংকীর্ণ এলাকায় গাদাগাদি করে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এই হলদে রেখা অতিক্রম করলেই নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এর ফলে মানুষের চলাফেরার স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।

সামরিক হামলার পাশাপাশি গাজায় মানবিক পরিস্থিতি এখন চরম অবনতির দিকে। গত বছরের চুক্তিতে প্রতিদিন অন্তত ৬০০ ট্রাক ত্রাণ সহায়তার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ১৫০ থেকে ১৯০টি ট্রাক গাজায় প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছে। এর ফলে পুরো উপত্যকাজুড়ে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র হাহাকার তৈরি হয়েছে। 

বিশেষ করে ক্যানসার বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা কোনো ধরনের চিকিৎসা বা ওষুধ পাচ্ছেন না। অবরুদ্ধ এই জনপদে সাধারণ মানুষের জীবন এখন পুরোপুরি বিপর্যয়ের মুখে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, তথাকথিত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলায় চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা গাজার সাধারণ মানুষের জন্য কোনো নিরাপত্তা বয়ে আনতে পারেনি। বরং দখলদারিত্বের নতুন নতুন কৌশলে প্রতিদিন রক্ত ঝরছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে।

banner
Link copied!