উচ্চপর্যায়ের একটি সই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ওটায়ায় মিলিত হন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।
বৈঠকের পর প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয় যে, কোনো আবুধাবির যুবরাজের এটিই প্রথম কানাডা সফর।
গত বছরের নভেম্বর মাসে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে যে গতিশীলতা তৈরি হয়েছে, বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
বৈঠকের সময় দুই দেশ একটি ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সই করে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে, বাণিজ্যিক সুযোগ বাড়াতে এবং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মাত্র সাতচল্লিশ দিনে এই চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হয়।
কানাডা ও আমিরাতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব চালুর ঘোষণাকেও স্বাগত জানান কার্নি ও শেখ খালেদ। এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, উদ্ভাবন, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার একটি কাঠামো তৈরি হলো।
এই অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিতে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর উদ্দেশ্য হলো জ্বালানি, প্রতিরক্ষা এবং কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা জোরদার করা।
কানাডায় সত্তর বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অর্জিত অগ্রগতিকে স্বাগত জানান দুই নেতা। এর মধ্যে জ্বালানি, পরিবহন অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, সমুদ্র নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক শান্তিিংসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা বিষয়ে মতবিনিময় করেন কার্নি ও শেখ খালেদ।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সংলাপ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নৌ চলাচল এবং কার্যকর বহুপক্ষীয় সহযোগিতার প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা।
নতুন সই হওয়া চুক্তিগুলো বাস্তবায়নে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছেন তারা।
