শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

জেরুজালেমের জনসংখ্যা চিত্র

অধিকৃত জেরুজালেমে খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর হার কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৫৬ শতাংশে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ৬, ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম

অধিকৃত জেরুজালেমে খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর হার কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৫৬ শতাংশে

অধিকৃত জেরুজালেমে বসবাসরত খ্রিস্টানদের অনুপাত গত এক শতাব্দীতে নাটকীয়ভাবে কমে গেছে বলে মঙ্গলবারের এক গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে। একসময়ে শহরের মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশ খ্রিস্টান হলেও বর্তমানে তা মাত্র ১ দশমিক ৫৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ জেরুজালেমে প্রায় ১৫ হাজার ৩০০ খ্রিস্টান বসবাস করতেন। যার মধ্যে আনুমানিক ১৩ হাজার ১০০ জনই ছিলেন ফিলিস্তিনি।

ইসরায়েলি নীতি, ধারাবাহিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ, অব্যাহত দেশত্যাগ এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কম থাকাকে এই জনমিতিক পতনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে গবেষণাটি।

জেরুজালেমে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে তৈরি ইসরায়েলি আবাসিক নীতিগুলোও সামগ্রিক ফিলিস্তিনি উপস্থিতি কমাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ কঠোর জীবনকেন্দ্রের মানদণ্ড ব্যবহার করে আবাসিক অনুমতিপত্র বাতিল করেছে।

গির্জার ওয়াকফ সম্পত্তি ও স্থাবর সম্পত্তি দখলের নানামুখী চেষ্টার প্রমাণ নথিবদ্ধ করেছেন গবেষকরা। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ওয়াকফ জমির প্রায় ২৮ শতাংশই এসব সম্পত্তির আওতাভুক্ত। দীর্ঘমেয়াদী ইজারা এবং আর্থিক চাপের মাধ্যমে প্রায়ই এসব সম্পত্তি লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

প্রতিবেদনে খ্রিস্টান যাজক, সন্ন্যাসী এবং উপাসনাকারীদের ওপর ঘনঘন হামলার বিশদ বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। শারীরিক ও মৌখিক আক্রমণ, থুতু নিক্ষেপ, সম্পত্তি ভাঙচুর এবং কবরস্থান ও ধর্মীয় প্রতীক অবমাননার মতো ঘটনা ঘটেছে।

পবিত্র সেপুলকার গির্জায় প্রবেশের ওপর কঠোর ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কথাও তুলে ধরেছে গবেষণাটি। পবিত্র শনিবারে প্রার্থনা এবং ইস্টার উৎসবের মতো প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণের ওপর কর্তৃপক্ষ কঠোর কোটা আরোপ করেছে।

গবেষণার লেখকরা সতর্ক করে বলেছেন যে এই কাঠামোগত নীতিগুলো জেরুজালেমের ঐতিহ্যবাহী আরব ও বহুত্ববাদী চরিত্রকে সক্রিয়ভাবে বিপন্ন করছে। খ্রিস্টানদের পবিত্র স্থান, গির্জার সম্পত্তি এবং অবশিষ্ট ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় জরুরি আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমজুড়ে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান এবং সহিংসতার পরিপূরক হিসেবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ফিলিস্তিনি সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই চলমান সহিংসতার সময়ে ১ হাজার ২২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ১৩ হাজার ৩৫০ জন আহত এবং ২৬ হাজারের বেশি মানুষ আটক হয়েছেন।

banner
Link copied!