শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

সামরিক কৌশল

অস্ত্র উৎপাদন ও সংরক্ষণের জন্য ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা নির্মাণ: আইআরজিসির ঘোষণা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ৭, ২০২৬, ১১:৩০ পিএম

অস্ত্র উৎপাদন ও সংরক্ষণের জন্য ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা নির্মাণ: আইআরজিসির ঘোষণা

ভারী বোমা হামলার মুখেও অস্ত্র উৎপাদন ও সংরক্ষণ অব্যাহত রাখতে ভূগর্ভস্থ সামরিক কমপ্লেক্স নির্মাণ করছে ইরান। তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস বা আইআরজিসি এই অগ্রগতির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি সংবাদ সম্মেলনে সামরিক সক্ষমতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব অর্জন তুলে ধরা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে খুব দ্রুত উন্মোচন করতে যাওয়া একটি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র নগরী।

মোহেব্বি জানান, আইআরজিসি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন লাইনগুলো দ্রুত ভূপৃষ্ঠ থেকে ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় স্থানান্তর করেছে। এর ফলে শত্রুরা যখন ভাববে মজুত ফুরিয়ে আসছে, তখনো ইরানের পক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

মুখপাত্র স্টিলথ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, এই উন্নতির কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে বিগত দফার সংঘাতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পেরেছিল।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের ব্যবহৃত প্রতিটি অস্ত্র নিজস্ব জ্ঞান ও দক্ষতার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। তিনি যোগ করেন যে, এই পণ্যগুলো শত্রুর যুদ্ধাস্ত্র রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং বা উল্টো প্রকৌশলের মাধ্যমে তৈরি করা নয়।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিগত দফার সংঘাতগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ক্ষতি করেছে ইরান। রয়টার্সের পৃথক আরেকটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, একই সময়ে ইরান কমপক্ষে ১৩৫ বার সফলভাবে উপসাগরীয় অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

মোহেব্বি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান যে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি বিবৃতির পরপরই এই সতর্কবার্তা এলো, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পুনরায় আক্রমণ করলে ইরানের প্রতিক্রিয়ার কোনো ভৌগোলিক সীমা থাকবে না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরু হলে তেহরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় এবং এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি হয়। যুদ্ধ বন্ধ করতে আঞ্চলিক দেশগুলো সম্প্রতি মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানান যে সামরিক বাহিনী ইরানের কেশম দ্বীপে সীমিত হামলা চালিয়েছে, একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন যে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ওয়াশিংটন বেশ অগ্রগতি সাধন করেছে। লড়াই পুনরায় শুরু হলে উপসাগরীয় জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানোর বিষয়ে তেহরান বারবার সতর্ক করে আসছে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ছাড় আদায়ের জন্য ওয়াশিংটন ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে এবং নতুন বাণিজ্য রুট তৈরিতে বাধ্য করছে। যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট্রাল কমান্ড শনিবার ঘোষণা করেছে যে, তেল রপ্তানি বন্ধের বিদ্যমান নৌ অবরোধের পাশাপাশি উন্নত অস্ত্র পরিবহনে স্থলপথের ব্যবহার আটকাতে নতুন একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

banner
Link copied!