দীর্ঘ ১২ বছর বন্ধ থাকার পর লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে নিজেদের দূতাবাস পুনরায় চালু করেছে মিশর। উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে তীব্র সংঘাতের কারণে বিদেশি মিশনগুলো বাধ্য হয়ে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার পর এই দূতাবাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। শনিবার কায়রোতে অবস্থিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এর মাধ্যমে ত্রিপোলির পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের এক নতুন কূটনৈতিক মোড় দেখা গেল।
দীর্ঘকাল ধরে মিসরের প্রধান মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন দেশের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতার। ত্রিপোলির প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দাইবার নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এই সামরিক কমান্ডার। পূর্বাঞ্চলের বেনগাজি শহরের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির হাতে।
২০১৪ সালে ত্রিপোলিতে নিজেদের কূটনৈতিক মিশন বন্ধ করে দিয়েছিল মিশর। ওই বছর তেলসমৃদ্ধ লিবিয়া এক চরম সংঘাতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দেশের রাজধানী এবং পূর্বাঞ্চলে পৃথক দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার ক্ষমতা দখল করে নেয়।
শনিবার দূতাবাস পুনরায় চালু করার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি। তিনি বলেন, এই ঐতিহাসিক দূতাবাস ভবনের গুরুত্ব দুই দেশের গভীর মানবিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। মিসর ও লিবিয়ার পারস্পরিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি এই ঐতিহাসিক বন্ধন।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে ন্যাটো সমর্থিত গণঅভ্যুত্থানে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই তীব্র অস্থিতিশীলতায় নিমজ্জিত হয় লিবিয়া। এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশটির প্রশাসন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বেনগাজি শহর থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে খলিফা হাফতারের বাহিনী। এছাড়া সেখানে রয়েছে পার্লামেন্ট বা প্রতিনিধি পরিষদ এবং ওসামা হাম্মাদের নেতৃত্বে একটি পৃথক সরকার।
অন্যদিকে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চল পরিচালিত হয় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দাইবার নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য সরকার এই অঞ্চলের ক্ষমতায় রয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমাঞ্চলের ত্রিপোলিতে সুপ্রিম কাউন্সিল অব স্টেটও তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মিসরের এই পদক্ষেপ লিবিয়ার বিবদমান পক্ষগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। সাম্প্রতিক সময়ে ত্রিপোলি প্রশাসনের সঙ্গে কায়রো যোগাযোগ বাড়ানোর যে উদ্যোগ নিয়েছে, এই দূতাবাস চালুকে তার অন্যতম বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উত্তর আফ্রিকার এই দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর এমন ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
