হুথি বাহিনীর বিরুদ্ধে আট শতাধিক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সামরিক মুখপাত্র মাজেদ আল-নাজিলি এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
ইয়েমেনের ভোর নামের একটি সামরিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এসব অভিযান চালানো হয়েছে। আল-নাজিলি জানান, এই মিশনগুলোতে হুথিদের বিভিন্ন অবস্থান, সেনা শক্তিবৃদ্ধি এবং সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
অভিযান চলাকালে সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা দিতে যুদ্ধবিমান, মানবহীন ড্রোন এবং আর্টিলারি ইউনিট অংশ নেয়। এসব হামলায় মিসাইল লঞ্চারসহ অন্তত ৫০টি সামরিক যান ও সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ প্রদেশে সরকারি সেনা এবং মিত্র পপুলার রেজিস্ট্যান্স যোদ্ধারা হুথিদের হামলা প্রতিহত করেছেন। পাশাপাশি তারা ওই এলাকায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অবস্থান ও চলাচল লক্ষ্য করেও আক্রমণ চালান।
মোরিব ও আল-জউফ প্রদেশে হুথিদের বিভিন্ন ঘাঁটি ও রসদ সরবরাহের ওপর আক্রমণ চালায় সামরিক বাহিনী। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় ও পশ্চিমাঞ্চলীয় উভয় রণাঙ্গনেই সরকারি মিত্র বাহিনীগুলোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সংঘর্ষের সময় বেসামরিক মানুষ এবং অবকাঠামোগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। তবে সামরিক বাহিনীর এই দাবির বিষয়ে হুথিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা এবং দেশের বিভিন্ন অংশ দখল করার পর থেকেই ইয়েমেনে সংঘাত চলছে। এরপর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করে।
এই সামরিক হস্তক্ষেপ বছরের পর বছর ধরে চলা লড়াই এবং একটি তীব্র মানবিক সংকটের জন্ম দেয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর গত জুলাই মাসে সরকার ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়।
