ইরান সরকার সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অপারেশন পরিচালনার দায়ে তিন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। বিচার বিভাগের মুখপত্র মিজান অনলাইন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরটি জানানো হয়।
সুপ্রিম কোর্টে সাজা বহাল থাকার পর হাসান দিববন্দ, হামিদ কাজেমী এবং রেজা জাঙ্গানেহ নামের ওই তিন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, বিক্ষোভের সময় ইসরায়েলি জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিভিন্ন শত্রুভাবাপন্ন দলের পক্ষে অপারেশনাল কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার দোষে তারা দোষী সাব্যস্ত হন।
মিজান অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া এই তিন ব্যক্তি পেট্রোল বোমা এবং গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছিলেন। তারা ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি তেহরানের পশ্চিমে অবস্থিত কারাজ শহরে সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করেন।
এই মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিরা পাঁচ থেকে দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড পেয়েছেন। তবে বিচার বিভাগ এসব ব্যক্তির বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে গত ডিসেম্বরে এই বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু হয়েছিল। দ্রুতই এটি বিস্তৃত সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়, যা ৮ ও ৯ জানুয়ারি চরমে পৌঁছায়।
ইরানি কর্তৃপক্ষ এই অস্থিরতায় তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। তারা এই সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছে।
অন্যদিকে বিদেশে অবস্থিত বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা আরও বেশি হতাহতের সংখ্যা উল্লেখ করে দাবি করেছে যে, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার বৃদ্ধি পেয়েছে।
