অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে উগ্রপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা ব্যাপক সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে বলে বিবিসির সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গত শনিবার ১৮ বছর বয়সী এক ইহুদি তরুণের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই হামলার সূত্রপাত ঘটে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাতারাতি অন্তত ২০টির বেশি ফিলিস্তিনি গ্রামে হামলা চালিয়েছে উগ্রপন্থীরা।
হামলার শিকার গ্রামগুলোর মধ্যে জালুদ, কারিয়ুত এবং আল-ফান্দুকুমিয়াহ অন্যতম। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, মাস্ক পরা একদল ব্যক্তি গ্রামে ঢুকে ঘরবাড়ি ও যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, জালুদ গ্রামে হামলাকারীদের প্রতিহত করতে গিয়ে অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। ভবনের দেওয়ালে ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার হুমকি দিয়ে লেখা গ্রাফিতিও দেখা গেছে।
জাতিসংঘের দেওয়া তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলার হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পহেলা মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা ওই এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সেনা ও সীমান্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে।
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা `ইয়েশ দিন` এই হামলাকে একটি সংগঠিত তাণ্ডব হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে যে, হামলার আগাম পরিকল্পনা জানা থাকলেও নিরাপত্তা বাহিনী তা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এদিকে, ইসরায়েলের কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ নিহতের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তবে ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
আন্তর্জাতিক মহলে এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্য দাবি করেছে যে, ইসরায়েল সরকারকে অবিলম্বে এই উগ্রবাদী সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। বর্তমানে পশ্চিম তীরের প্রায় ১৬০টি অবৈধ বসতিতে সাত লাখ ইহুদি বসবাস করছে, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ বলে বিবেচিত।
