অধিকৃত পশ্চিম তীরে শান্তিপ্রিয় ও ঘরোয়া জীবনের আড়ালে তরুণী ইসরায়েলি নারীদের একটি উগ্রপন্থী দল হিলটপ গার্লস নামে পরিচিতি লাভ করেছে, যারা মূলত তথাকথিত বৃহত্তর ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবৈধ বসতি স্থাপনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, আল জাজিরা এবং রয়টার্স জানিয়েছে।
ঐতিহ্যগতভাবে সহিংস কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত হিলটপ ইয়ুথ আন্দোলনের নারী শাখা হিসেবে এই দলটি আত্মপ্রকাশ করেছে। সশস্ত্র তৎপরতা বা সামরিক টহলের পরিবর্তে এই তরুণীরা দৈনন্দিন ঘরোয়া কর্মকাণ্ড ও সামাজিক মাধ্যমের প্রচারণার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত জমি দখল এবং নতুন আউটপোস্ট বা বসতি স্থাপনকে স্বাভাবিক করে তোলার কৌশল নিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রচারণামূলক ভিডিওগুলোতে এই নারীরা নিজেদের সাধারণ গৃহিণী হিসেবে উপস্থাপন করে থাকেন, যারা রান্না করা কিংবা কাপড় ধোয়ার মতো সাধারণ কাজ করছেন। এর মাধ্যমে তারা সহিংস উগ্রপন্থীদের পরিচিত ইমেজ থেকে দূরে সরে গিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য করে তুলতে সচেষ্ট রয়েছেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, তাদের এই নরম কৌশলের চূড়ান্ত লক্ষ্য অত্যন্ত উগ্র। ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের গণ্ডি পেরিয়ে মিশর, জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক এবং আরব উপদ্বীপ জুড়ে বৃহত্তর রাষ্ট্র গঠনের যে অতি-জাতীয়তাবাদী মতাদর্শ রয়েছে, তার সঙ্গে এই বসতি স্থাপন কার্যক্রম সরাসরি যুক্ত। মাওজ ইস্টার এবং ওর আহুভিয়া আউটপোস্টের মতো স্থানগুলোতে এই পদ্ধতিগত সম্প্রসারণ স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে।
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বাহ্যিক দৃষ্টিতে পুলিশ কখনো কখনো এসব অবৈধ আউটপোস্ট উচ্ছেদের নাটক করলেও বাস্তবে ইসরায়েলি প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা এর পেছনে রয়েছে। বেসামরিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে জল, বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট এবং নিরাপত্তা সুরক্ষা সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
ক্ষমতাসীন সরকারের কট্টরপন্থী মন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং ইতামার বেন-গভিরের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও এই বসতি স্থাপনকারীদের প্রকাশ্য সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। গত বছরগুলোতে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এই মতাদর্শিক ও কৌশলগত সম্প্রসারণের মানবিক মূল্যের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।
