ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় তথাকথিত যুদ্ধবিরতির দাবি উপেক্ষা করেই ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার গাজার বিভিন্ন স্থানে চালানো এই ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ১২ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় চিকিৎসা সূত্রগুলো।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে এবারের হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল গাজার বেসামরিক পুলিশ বাহিনী এবং জনাকীর্ণ আবাসিক এলাকা।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায় যে শুক্রবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একটি পুলিশ ভ্যান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। ওই একটি হামলাতেই অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে নিহতদের মধ্যে তিনজনই ছিলেন সাধারণ পথচারী যারা ওই সময় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন।
হামলার প্রচণ্ডতায় পুলিশের গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং আশপাশের স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া গাজা সিটিতে পৃথক একটি হামলায় আরও দুইজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া অঞ্চলে একটি আবাসিক বাড়িতে বোমা বর্ষণ করলে সেখানেও দুইজন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু ঘটে।
গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলার পর একটি জরুরি বিবৃতি প্রদান করেছে। বিবৃতিতে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় বলছে যে ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে সেই সব পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে যারা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় বেসামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।
খান ইউনিসের ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলা হয় যে সেখানে পুলিশ সদস্যরা একটি স্থানীয় সংঘর্ষ থামাতে যাচ্ছিলেন তখনই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। বেসামরিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে গাজায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। পুলিশ সদস্যদের হত্যা করার মাধ্যমে তারা স্থানীয় অপরাধী চক্রগুলোকে শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
এর ফলে গাজায় ত্রাণবাহী কাফেলাগুলোর নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে। গত কয়েক মাস ধরেই গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাক লুটপাটের ঘটনা বেড়েছে কারণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত বাহিনী রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আল জাজিরার বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ মেয়াদী যুদ্ধে ইসরাইল বারবার সেই সব বাহিনীকে টার্গেট করেছে যারা জনগণের দৈনন্দিন সেবায় নিয়োজিত।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নীরবতাকে ইসরাইলি দখলদার শক্তির সঙ্গে পরোক্ষ সহযোগিতা হিসেবে বর্ণনা করেছে গাজার কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে যে এই নীরবতা ইসরাইলকে আরও বড় অপরাধ করতে উৎসাহিত করছে।
গাজার পুলিশ বাহিনী কোনো সামরিক অভিযানে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও তাদের ওপর বারবার হামলা চালানোর কোনো বৈধতা নেই বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়। বর্তমানে গাজার হাসপাতালগুলোতে লাশের সারি বাড়ছে এবং আহতের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থাও ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও গাজার সাধারণ মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করে যাচ্ছেন।
