গাজার অস্থায়ী তাঁবু শিবিরগুলোতে এখন নতুন এক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপকভাবে ইঁদুর ও বিভিন্ন পরজীবীর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রাতের বেলায় ঘুমের মধ্যে শিশুদের হাত ও পায়ের আঙুলে ইঁদুর কামড়ে দিচ্ছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইঁদুরগুলো মানুষের বেঁচে থাকা সামান্য জিনিসপত্রও কেটে নষ্ট করছে এবং পুরো শিবিরজুড়ে সংক্রামক রোগ ছড়াচ্ছে।
ইসরায়েলি হামলায় গাজার পয়োনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, কেবল ২০২৬ সালের প্রথম কয়েক মাসেই গাজায় ইঁদুর ও পরজীবী সম্পর্কিত সংক্রমণের প্রায় ১৭ হাজার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। চিকিৎসা সরবরাহ ও ওষুধের তীব্র সংকটের কারণে এই ধরনের সংক্রমণগুলোর চিকিৎসা করা স্থানীয় চিকিৎসকদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই প্রাদুর্ভাব এমন এক সময়ে ঘটছে যখন গাজার ২০ লাখেরও বেশি মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এই বিপুলসংখ্যক মানুষ এখন বাধ্য হয়ে খোলা মাঠে, রাস্তার পাশে, এমনকি ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের ওপর ত্রিপল টানিয়ে বসবাস করছেন। গাজার প্রতিটি অস্থায়ী শিবিরের পাশেই এখন বিশাল বিশাল আবর্জনার স্তূপ জমে থাকতে দেখা যায়। জ্বালানির অভাব এবং ক্রমাগত বিমান হামলার কারণে স্থানীয় পৌরকর্মীরা মাসের পর মাস ধরে ময়লা পরিষ্কার করতে পারছেন না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো বেশ কিছুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছিল যে, গাজায় বোমার চেয়েও বেশি মানুষ মারা যেতে পারে সংক্রামক রোগে। এখন সেই আশঙ্কাই যেন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। পানীয় জলের অভাব, শৌচাগারের অপর্যাপ্ততা এবং চারপাশের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ইঁদুর ও পরজীবীদের বংশবৃদ্ধির জন্য একটি আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, গাজার সাধারণ মানুষ একদিকে যেমন প্রতিদিন ইসরায়েলি বাহিনীর অবিরাম হামলার মুখোমুখি হচ্ছেন, অন্যদিকে তাদের লড়াই করতে হচ্ছে তীব্র খাদ্য ও ত্রাণ সংকটের সাথে। আন্তর্জাতিক সীমান্তগুলো দিয়ে পর্যাপ্ত ত্রাণ প্রবেশ করতে না পারায় মানুষ এমনিতেই পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। এর ওপর নতুন করে ইঁদুরের আক্রমণ ও মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জীবনকে রীতিমতো নরকে পরিণত করেছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ইঁদুরের কামড়ের কারণে শিশুদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেক শিশুই রাতে ঘুমাতে ভয় পাচ্ছে। ইঁদুরবাহিত রোগ এবং চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব সামাল দেওয়ার মতো কোনো সরঞ্জাম বর্তমানে গাজার স্বাস্থ্যকর্মীদের হাতে নেই। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে খুব শিগগিরই এই স্বাস্থ্য সংকট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে চিকিৎসকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
