বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২১, ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

কূটনৈতিক প্রোটোকল ভেঙে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাইওয়ানের কাছে সম্ভাব্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনি এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন। ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রথা অনুযায়ী ১৯৭৯ সালের পর থেকে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাইওয়ানের নেতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেননি।বুধবার ট্রাম্প নিজেই এই সম্ভাব্য ফোনালাপের কথা সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

তাইওয়ানের কাছে এক হাজার ৪০০ কোটি ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজ বিক্রির পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র, যার মধ্যে ড্রোন বিধ্বোধী ব্যবস্থা এবং বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এই চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ট্রাম্প তাইওয়ানের নেতার সঙ্গে কথা বলতে চান। ট্রাম্প বলেন, "আমি তাঁর সাথে কথা বলব। আমি সবার সাথেই কথা বলি। আমরা তাইওয়ান সমস্যা নিয়ে কাজ করব।"এর আগে গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দুই দিনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষ করেছেন ট্রাম্প।

শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে ‍‍`অসাধারণ‍‍` বলে বর্ণনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বেইজিং সফরকালে চীন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সংবেদনশীল ইস্যু হলো তাইওয়ান। শি জিনপিং সতর্ক করে বলেছেন, এই বিষয়টি সঠিকভাবে সামলানো না হলে দুই পরাশক্তির মধ্যে সরাসরি সংঘাত তৈরি হতে পারে। ট্রাম্প অবশ্য এই সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন, তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে তাইওয়ান নিয়ে চীনের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর।

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন অংশ মনে করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে তা নিয়ন্ত্রণের হুমকি দিয়ে আসছে।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বেইজিং। বৃহস্পতিবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, চীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাইওয়ানের মধ্যে যেকোনো ধরনের অফিশিয়াল যোগাযোগ এবং অস্ত্র বিক্রির কঠোর বিরোধিতা করে। একই সঙ্গে তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলোকে কোনো ধরনের ভুল বার্তা না দিতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অস্ত্র চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পেন্টাগনের শীর্ষ নীতি নির্ধারণী কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবির বেইজিং সফর স্থগিত রেখেছে চীন।

তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করতে পেরে আনন্দিত হবেন।

লাই চিং-তে এক বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেছেন, তাইওয়ান একটি সার্বভৌম এবং স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। তাইওয়ান প্রণালীর শান্তি ও স্থিতিশীলতা কোনো কিছুর বিনিময়ে বা বাণিজ্যের স্বার্থে বিসর্জন দেওয়া হবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ এই অঞ্চলের শান্তি বজায় রাখার জন্য একটি অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি।ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগেও মার্কিন কূটনৈতিক প্রথা ভেঙে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন।

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি তাইওয়ানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে সরাসরি ফোনালাপ করেছিলেন, যা নিয়ে বেইজিং আনুষ্ঠানিক ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। সাধারণত ১৯৮২ সালের একটি মার্কিন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করার কথা ওয়াশিংটনের। কিন্তু এ বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য, "১৯৮০-এর দশক এখন অনেক পুরনো ইতিহাস।" গত ডিসেম্বরেও তাইওয়ানের কাছে এক হাজার ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

banner
Link copied!