রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

বিশ্ব সংবাদ

ইরান যুদ্ধ ও বিশ্ব অর্থনীতি: শক্তিশালী দেশগুলোর ভিন্নমুখী অবস্থান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম

ইরান যুদ্ধ ও বিশ্ব অর্থনীতি: শক্তিশালী দেশগুলোর ভিন্নমুখী অবস্থান

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন সভায় যোগ দেওয়া বিশ্ব নেতারা এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে।

ব্রিটিশ চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস এই যুদ্ধকে একটি "বড় ভুল" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, এই যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ধাক্কা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য এই সামান্য "অর্থনৈতিক যন্ত্রণা" মেনে নেওয়া প্রয়োজন। তার মতে, ইরানের পরমাণু হুমকি দূর করার সুফলের তুলনায় বর্তমান মন্দার ঝুঁকি নগণ্য।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ জানিয়েছেন যে, যুদ্ধের ফলে ইরাক থেকে তেল রপ্তানি বন্ধ থাকায় দেশটির রাজস্বের ৮৫ শতাংশই উধাও হয়ে গেছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে কারণ মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া সারের কাঁচামাল ইউরিয়ার দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় আগামী জুন-জুলাই নাগাদ বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট প্রকট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংস্থাটি ১০০ বিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিল প্রস্তুত রেখেছে।

আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করেছেন যে, এপ্রিল মাস বিশ্ব অর্থনীতির জন্য আরও কঠিন হতে চলেছে। তবে শুক্রবার ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তা সত্ত্বেও বিশ্ব নেতারা মনে করছেন, এই সংকট এখনই পুরোপুরি কেটে যায়নি এবং এর রেশ আগামী কয়েক বছর বিশ্ব অর্থনীতিকে ভোগাতে পারে।

banner
Link copied!