রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

ট্রাম্পের ঘোষণার আগে রহস্যময় লেনদেন: অনুসন্ধানী তথ্য

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২০, ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম

ট্রাম্পের ঘোষণার আগে রহস্যময় লেনদেন: অনুসন্ধানী তথ্য

ট্রাম্প ও বাজার অস্থিরতা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক নীতি ও যুদ্ধ সংক্রান্ত বড় ঘোষণার ঠিক আগ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারগুলোতে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 

বাজার পর্যবেক্ষকরা দাবি করছেন এই প্যাটার্নটি অনেকটা অবৈধ ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মতো যেখানে সাধারণ মানুষের কাছে খবর পৌঁছানোর আগেই প্রভাবশালী মহলের কেউ অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবহার করে বিপুল মুনাফা লুটে নেয়। 

বিবিসি গত কয়েক মাসের ট্রেড ভলিউম ডেটা এবং প্রেসিডেন্টের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টের সময় মিলিয়ে দেখেছে যে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ঘোষণা আসার কয়েক মিনিট আগেই বাজারে অস্বাভাবিক অস্থিরতা শুরু হয়েছিল।

এর একটি বড় উদাহরণ লক্ষ্য করা গেছে ২০২৬ সালের ৯ মার্চ তারিখে। ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধের নবম দিনে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী সেই দিন গ্রিনিচ মান সময় ১৯:১৬ মিনিটে ট্রাম্পের ওই বক্তব্য জনসমক্ষে আসার ঠিক ৪৭ মিনিট আগে অর্থাৎ ১৮:২৯ মিনিটে তেলের বাজারে বড় ধরনের বাজি ধরেছিলেন কিছু ট্রেডার। 

তেলের দাম কমবে এমন ধারণায় করা সেই বিনিয়োগগুলো থেকে পরে বিপুল মুনাফা করা হয় কারণ ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের পর তেলের দাম মুহূর্তেই ২৫ শতাংশ পড়ে গিয়েছিল। বিশ্লেষকরা বলছেন তথ্য আগেভাগে না জানলে এত বড় ঝুঁকি নেওয়া কোনো সাধারণ ট্রেডারের পক্ষে সম্ভব ছিল না।

একই ধরণের ঘটনা ঘটেছিল গত ২৩ মার্চ তারিখে যখন ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে ইরানের সাথে সম্ভাব্য সমঝোতার কথা লিখেছিলেন। সেই পোস্টটি জনসমক্ষে আসার ১৪ মিনিট আগে অপরিশোধিত তেলের বাজারে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি লেনদেন লক্ষ্য করা গেছে বলে রয়টার্স এবং বিবিসির তথ্যে উঠে এসেছে। 

তেলের দাম কমার ওপর বাজি ধরে সেই সময় ব্যবসায়ীরা কয়েক মিলিয়ন ডলার মুনাফা করেন। বাজার বিশ্লেষকরা সে সময় বিষয়টিকে অস্বাভাবিক বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় হোয়াইট হাউসের কোনো কর্মকর্তার যোগসাজশ ছিল কিনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শুধু তেলের বাজার নয় বরং প্রেডিকশন মার্কেট বা অনলাইন বাজি ধরার প্ল্যাটফর্মগুলোতেও এমন সন্দেহজনক তৎপরতা দেখা গেছে। পলিমার্কেট এবং কালশির মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়ে বড় অংকের বাজি ধরা হয়েছিল মাদুরো আটক হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে।

 বিশেষ করে বার্ডেনসাম মিক্স নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ৩২ হাজার ডলার বাজি ধরে পরে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ডলার জিতে নেওয়ার ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র পলিমার্কেটের উপদেষ্টা বোর্ডে রয়েছেন যা বিষয়টিকে আরও বিতর্কিত করেছে।

এইসব অভিযোগের বিষয়ে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা এসইসি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে ডেমোক্র্যাট দলীয় কয়েকজন সিনেটর ইতিমধ্যে এসইসিকে চিঠি দিয়ে তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছেন যাতে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ কোনো কর্মকর্তা সাধারণ মানুষের অর্থে নিজেদের পকেট ভারী করছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হয়। 

হোয়াইট হাউস থেকেও এখন পর্যন্ত বিবিসির এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে গত মাসে কর্মীদের কাছে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ ইমেইলে হোয়াইট হাউস তাদের কর্মকর্তাদের ইনসাইডার তথ্য ব্যবহার করে কোনো ধরণের বাজি না ধরার ব্যাপারে সতর্ক করেছিল বলে জানা গেছে।

banner
Link copied!