যুক্তরাজ্যের কৌঁসুলিদের আনা ধর্ষণ এবং যৌন পাচারের নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মিয়ামি থেকে প্রভাবশালী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্ব অ্যান্ড্রু টেট এবং তার ভাই ট্রিস্টান টেটকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে রয়টার্স এবং দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল সার্ভিস নিশ্চিত করেছে যে, গত শনিবার একটি সিলমোহরকৃত আইনি পরোয়ানার ভিত্তিতে এই দুই ভাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে হেফাজতে নেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে রোমানিয়া থেকে যুক্তরাজ্য এবং সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রে বিস্তৃত একটি দীর্ঘ ও জটিল আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার নতুন অধ্যায় শুরু হলো। পূর্ব ইউরোপের দেশ রোমানিয়াতেও তারা এর আগে মানব পাচার এবং ধর্ষণের অভিযোগে গুরুতর আইনি জটিলতার মুখে পড়েছিলেন।
টেট ভ্রাতৃদ্বয় যুক্তরাজ্যে বেড়ে উঠলেও তারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী। ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, তারা এই দুই ভাইকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে নিতে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে। তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে ধর্ষণ, যৌন পাচার এবং শারীরিক নির্যাতনের মোট ৩৮টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এই অভিযোগগুলোর বিচারকাজ সম্পন্ন করতেই তাদের আটলান্টিকের ওপার থেকে দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে।
৩৯ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু এবং ৩৮ বছর বয়সী ট্রিস্টান পেশাগত জীবনে সাবেক কিকবক্সার ছিলেন। তবে পরবর্তীতে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের একটি বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, যেখানে মূলত উগ্র পৌরুষ, নারীবিদ্বেষ এবং দ্রুত ধনী হওয়ার বিতর্কিত ধারণার প্রচার করা হতো। অ্যান্ড্রু টেট ইন্টারনেট জগতে তথাকথিত ম্যানোস্ফিয়ার বা পুরুষকেন্দ্রিক নেটওয়ার্কের অন্যতম প্রধান প্রবক্তা হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান।
এই ধরনের অনলাইন সম্প্রদায়গুলো ঐতিহ্যবাহী পুরুষতন্ত্র, নারীবাদ বিরোধিতা এবং স্ব-উন্নয়নের নামে উগ্র মতাদর্শ প্রচার করে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো তরুণের ওপর তার ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। বর্তমানে এক্সে তার প্রায় ১ কোটি ৮ লাখ অনুসারী রয়েছে, যেখানে তিনি নিয়মিত নিজের বিতর্কিত এবং আক্রমণাত্মক নারীবিদ্বেষী চিন্তাধারা প্রচার করেন।
এর আগে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের নীতি লঙ্ঘনের দায়ে ইউটিউব, টিকটক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো বড় প্ল্যাটফর্মগুলো তাকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছিল। তা সত্ত্বেও তিনি অনলাইনে একটি স্বাধীন একাডেমি পরিচালনা করেন, যেখানে তরুণদের ধনী হওয়া এবং নারীদের আকৃষ্ট করার কথিত কৌশল শেখানো হয়। এই দুই ভাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হিসেবেও ব্যাপকভাবে পরিচিত। এখন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে গ্রেফতার হওয়ার পর তাদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলছে।
