ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ওদেসার কাছে একটি জাহাজে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে দশ জন নিহত হয়েছেন। আল জাজিরা এবং রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার জাহাজটি গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ছিল এবং এতে ভুট্টার চালান বহন করা হচ্ছিল। জাহাজটিতে থাকা কর্মীদের একটি বড় অংশ ভারত ও সিরিয়ার নাগরিক ছিলেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকারীরা আট জন কর্মীকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।
চলতি জুলাই মাসে ওদেসা অঞ্চলে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় এখন পর্যন্ত আটাশ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ কিপার জানিয়েছেন যে জুলাই মাসের শুরু থেকেই ওদেসা অঞ্চলটি অবিরাম গোলাবর্ষণের শিকার হচ্ছে। এমন দিনও গেছে যখন সেখানে তেরো থেকে পনেরো বার বিমান হামলার সতর্কতা সংকেত দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করেছে যে তারা ওদেসা বন্দরের জ্বালানি সংরক্ষণাগারে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে।
এরই পাল্টা জবাব হিসেবে ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ডে ড্রোন হামলার মাত্রা অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আল জাজিরার তথ্যমতে, গত রাতে ইউক্রেন মস্কো এবং এর আশপাশের অঞ্চলে কয়েকশ ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ড্রোন হামলায় কমপক্ষে দশ জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কিয়েভে রাশিয়ার সাম্প্রতিকতম ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই ইউক্রেন এই পাল্টা আঘাত হেনেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউক্রেন বর্তমানে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর গোলাবারুদের তীব্র সংকটে ভুগছে যা রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘাটতির সুযোগ নিয়ে রাশিয়া তাদের হামলার হার অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। কিয়েভ এই মুহূর্তে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য আন্তর্জাতিক মহলে দৌড়ঝাঁপ করছে। তবে রাশিয়ার নতুন করে আক্রমণাত্মক অবস্থান ইউক্রেনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
মস্কোয় চালানো এই বিশাল ড্রোন হামলাকে যুদ্ধের এক নতুন মোড় হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। ইউক্রেন তাদের দীর্ঘপাল্লার ড্রোন সক্ষমতা ব্যবহার করে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত হানার কৌশল গ্রহণ করেছে। একদিকে ওদেসার বন্দর এবং অন্যদিকে মস্কোর আকাশসীমা—উভয় ক্ষেত্রেই এখন তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই দেশের সামরিক বাহিনী এখন একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা পরিচালনার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
এই সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পাল্টাপাল্টি হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুদ্ধবিরতির কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না বরং দিন দিন পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও সংঘাত কমিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো পক্ষই নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে না।
