ইরাকে মার্কিন বাহিনীর একটি অভিযানের সময় এক মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনার পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিহত সেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত চারশ বিশ জনের বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। গত সপ্তাহে জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় হতাহতের ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী দুই পর্যায়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। গত জুন মাসে উভয় দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগের সময়কালে তেরো জন মার্কিন সেনা যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন। এর মধ্যে মার্চ মাসের শুরুতে ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছয় জন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনাটি ছিল উল্লেখযোগ্য। কুয়েতে স্বাস্থ্যজনিত কারণে এক সেনার মৃত্যুর খবরও তখন পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমান উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে রবিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র টানা নবম দিনের মতো হামলা চালিয়েছে এবং এর জবাবে জর্ডানের আকাবা বিমানবন্দরে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ এখন পর্যন্ত সব নিহত সেনার নাম প্রকাশ না করলেও সম্প্রতি কয়েকজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে শনিবার নিহত টাইলার জেমস ফিহান এবং শুক্রবার জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে হামলায় নিহত ইসাবেলা গঞ্জালেজের নাম রয়েছে। এছাড়াও মার্চ মাসে ইরাক, কুয়েত এবং সৌদি আরবে বিভিন্ন হামলায় নিহত অন্য সেনাসদস্যদের নামও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিহত সেনাসদস্যদের মৃত্যুকে অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করে ইরানকে কড়া জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অন্যদিকে সাধারণ ইরানিদের ওপর এই যুদ্ধের প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। গত ১৮ জুলাই ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে চলতি জুলাই মাসেই মার্কিন হামলায় কমপক্ষে পঞ্চাশ জন নিহত এবং পাঁচশ জনের বেশি আহত হয়েছেন। যুদ্ধের শুরু থেকে জুন মাসে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর পর্যন্ত মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে তিন হাজার চারশ আটষট্টি জন ইরানি প্রাণ হারিয়েছেন। এই নিহতের তালিকায় নারী ও শিশুদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। এই সময়ের মধ্যে ছাব্বিশ হাজার পাঁচশ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
ইরানের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের ওপরও এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের ফলে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি, নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি, বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানি এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কমান্ডার প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক বা আফগান যুদ্ধের তুলনায় এই সংঘাতের মাত্রা ও সময়কাল ভিন্ন হলেও হতাহতের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। রয়টার্স এবং ইপসোস পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র চার ভাগের এক ভাগ মার্কিনি মনে করেন যে ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধের ব্যয় ও পরিণতি যৌক্তিক। অধিকাংশ মার্কিনি অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দুই দেশের মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি হামলা কবে শেষ হবে তা নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।
