ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সরাসরি নৌ-অবরোধ ঘোষণা করেছে। আল জাজিরা এবং রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত সপ্তাহের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে সোমবার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। হুথিরা যারা আনুষ্ঠানিকভাবে আনসার আল্লাহ নামে পরিচিত, তারা এই পদক্ষেপকে চোখের বদলে চোখ বা সমান জবাব দেওয়ার কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছে। প্রায় বারো বছর ধরে ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের আরোপিত কঠোর অবরোধের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই নতুন নৌ-অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে বলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি জানিয়েছে।
গৃহযুদ্ধ এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হস্তক্ষেপের দীর্ঘদিনের ইতিহাসে এটি নতুন এবং উদ্বেগের একটি অধ্যায়। ইয়েমেনের রাজধানী সানা ২০১৪ সালে হুথিরা দখলে নেওয়ার পর থেকেই সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের এই তীব্র সংঘাত চলছে। এর আগে সৌদি সমর্থিত সরকার এবং হুথিদের মধ্যে যে ভঙ্গুর শান্তি বজায় ছিল, তা এই ঘোষণার মাধ্যমে পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে সানা বিমানবন্দরে হামলার পর সৌদি আরবের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিরা পাল্টা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। যদিও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দাবি করেছে যে তারা সেগুলো আকাশে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল এবং বাব আল-মানদেব প্রণালীতে হুথিদের এই অবস্থানের প্রভাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের সময় হুথিরা লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালী নিয়ে যে চরম উত্তেজনা চলছে, তার মধ্যেই হুথিদের এই ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হুথিদের এই ঘোষণার পর সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা আসেনি, তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি জানিয়েছে যে তাদের এই অবরোধ স্থল, আকাশ এবং সমুদ্রপথে সৌদি আরবের ওপর আরোপিত দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার জবাব। সৌদি আরব এবং জোটের দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের সুরক্ষার বিষয়টি এখন বিশ্বমঞ্চে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ যুদ্ধের এই নতুন মোড়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের অচলবস্থা এবং সংঘাতের কারণে আগে থেকেই দেশটিতে মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে। এখন এই নতুন নৌ-অবরোধ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইয়েমেনের এই সংকটে কোনো পক্ষই নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে না, বরং নতুন করে সংঘাতের পথ বেছে নিচ্ছে।
