মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

গাজা দখলের ডাক দিয়ে ইসরায়েলি মন্ত্রী ও বসতি স্থাপনকারীদের মিছিল

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ২০, ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

গাজা দখলের ডাক দিয়ে ইসরায়েলি মন্ত্রী ও বসতি স্থাপনকারীদের মিছিল

গাজা উপত্যকায় পুনরায় বসতি স্থাপনের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইসরায়েলি রাজনীতি। গত কয়েক দিনে শত শত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী, দেশটির মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্যরা গাজা সীমান্তের দিকে একটি বিশাল পদযাত্রা করেছেন। এই মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা স্পষ্টভাবে গাজা অঞ্চলকে নিজেদের বলে দাবি তুলেছেন এবং সেখানে পুনরায় ইহুদি বসতি স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরায়েলি রাজনীতির উচ্চপর্যায়ে এই ধরনের দাবি এবং কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কণ্ঠে ছিল গাজা আমাদের এবং আমরা সেখানে ফিরে যাব—এমন স্লোগান। পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারী মন্ত্রী ও আইনপ্রণেতারা দাবি করেছেন যে গাজায় ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং সেখানে নাগরিকদের বসবাসের ব্যবস্থা করা একটি জাতীয় প্রয়োজন। গত কয়েক মাসে ইসরায়েলি রাজনীতির মূলধারায় এই ধরনের কট্টরপন্থী অবস্থানের গ্রহণযোগ্যতা ক্রমশ বাড়ছে। মিছিলে নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের অনেকেই মনে করেন যে নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে গাজায় বসতি ফেরানো সম্ভব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই পদযাত্রা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গাজাকে কেন্দ্র করে এই নতুন মেরুকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারের ভেতরে থাকা ডানপন্থী মন্ত্রী এবং প্রভাবশালী আইনপ্রণেতারা এই এজেন্ডাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তাদের দাবি, গাজা উপত্যকায় সামরিক উপস্থিতির বাইরেও সেখানে বেসামরিক বসতি স্থাপন করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের জন্য সুবিধাজনক হবে। তবে তাদের এই অবস্থানের বিপরীতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে কঠোর সতর্কবার্তা ও আপত্তি জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা গাজায় পুনরায় বসতি স্থাপনের প্রচেষ্টাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে গণ্য করেছে। তাদের মতে, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের পদক্ষেপ কেবল অস্থিরতা বাড়াবে এবং শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করবে। এর আগে গাজা থেকে বসতি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল ইসরায়েলি ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এখন পুনরায় সেই বসতি ফিরিয়ে আনার দাবি সেই অতীত সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করছে, যা দেশটির অভ্যন্তরে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি করেছে।

ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলো এবং সাধারণ নাগরিকদের একটি বড় অংশ এই ধরনের দাবির ঘোর বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, গাজায় পুনরায় বসতি স্থাপন করতে গেলে তা কেবল ইসরায়েলি সেনাদের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হবে না, বরং তা ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে চরম সংঘাতের পথ প্রশস্ত করবে। মিছিলে অংশ নেওয়া মন্ত্রী ও আইনপ্রণেতাদের বক্তব্য ইসরায়েলি সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে এখন সংশয় তৈরি হয়েছে। দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব এই দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিলেও, রাজনৈতিক ময়দানে বসতি স্থাপনকারীদের কণ্ঠস্বর দিন দিন জোরালো হচ্ছে।

গাজা সীমান্তের কাছে আয়োজিত এই মিছিলটি প্রমাণ করে যে, যুদ্ধ ও সংঘাতের বর্তমান আবহেও ইসরায়েলি ডানপন্থী রাজনীতিতে ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ এবং বসতি স্থাপনের আকাঙ্ক্ষা অটুট রয়েছে। এই মিছিলের পর আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলের প্রতি কূটনৈতিক চাপ বাড়বে কি না এবং সরকার এই দাবির বিপরীতে কোনো অবস্থান নেবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা যখন চরমে, তখন এই মিছিলটি নতুন করে উত্তেজনা ও বিতর্কের জন্ম দিল।

banner
Link copied!