মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃদ্ধি করেছেন বলে মঙ্গলবার তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক ঘোষণায় জানিয়েছেন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের অনুরোধে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তেহরান যেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি সমন্বিত প্রস্তাব পেশ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়, মূলত সেই লক্ষ্যেই এই সময় বাড়ানো হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় আগের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল, তবে ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপে আপাতত সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ইসলামাবাদ সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে বলে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে। জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধি দলের পাকিস্তানে শান্তি আলোচনায় যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও ইরান এখন পর্যন্ত এই আলোচনায় অংশগ্রহণের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেয়নি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিনভর ওয়াশিংটনে এক উত্তেজনাকর কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা গেছে।
বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সরাসরি ইসলামাবাদ যাওয়ার কথা থাকলেও তারা মিয়ামি থেকে ওয়াশিংটনে ফিরে আসেন এবং প্রেসিডেন্টের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন। এরপরই ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দেন যা ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।
ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব অভ্যন্তরীণভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং পাকিস্তানের অনুরোধেই তিনি আক্রমণ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে যুদ্ধবিরতি বাড়ালেও হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
ইরানের পক্ষ থেকে এই অবরোধকে যুদ্ধের শামিল বলে অভিহিত করা হলেও ট্রাম্প প্রশাসন একে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বা আঞ্চলিক ছায়া গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন কমানোর কোনো ইঙ্গিত এখনো দেয়নি যা ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান শর্ত।
বিশ্লেষকদের মতে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত মূলত কৌশলগত এবং এটি তার সমর্থকদের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের প্রতিফলন হতে পারে। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ব্রায়ান কাটুলিস আল জাজিরাকে জানিয়েছেন যে এটি একটি বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত তবে ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
অন্যদিকে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস জেফরি বিবিসিকে বলেছেন যে যুদ্ধ অবসানের কোনো নির্দিষ্ট সূত্র নেই এবং ট্রাম্প একাধারে সামরিক হুমকির পাশাপাশি আলোচনার প্রস্তাবও টেবিলে রাখছেন। যুদ্ধবিরতি বাড়লেও একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো এখনো বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে এবং বিশ্ববাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
