রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

হরমুজ প্রণালীতে ৩ জাহাজে গুলি, ইসরায়েলি মালিকানাধীনসহ ২ জাহাজ জব্দ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

হরমুজ প্রণালীতে ৩ জাহাজে গুলি, ইসরায়েলি মালিকানাধীনসহ ২ জাহাজ জব্দ

হরমুজে ইরানি বাহিনীর অভিযান

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনটি কার্গো জাহাজে গুলি চালিয়েছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। 

এর মধ্যে ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ এবং ‘এপামিনোন্ডাস’ নামের দুটি জাহাজ জব্দ করে ইরানি জলসীমায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে বিবিসির সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে প্রকাশিত আইআরজিসি নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জব্দ করা জাহাজ দুটির মধ্যে ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ ইসরায়েলি সরকারের মালিকানাধীন বলে দাবি করেছে তেহরান।

আইআরজিসির বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, জাহাজগুলো কোনো ধরণের অনুমোদন ছাড়াই হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ করেছিল এবং বারবার সতর্ক করার পরেও নেভিগেশন সহায়তা ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করে গোপনে এলাকাটি ত্যাগের চেষ্টা করছিল। 

সমুদ্রপথে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে এবং ইরানি জাতির অধিকার সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখা জাহাজগুলোকে শনাক্ত করে থামিয়ে দেয়। বর্তমানে জাহাজগুলোর কার্গো, নথিপত্র এবং রেকর্ড পরীক্ষা করার জন্য সেগুলোকে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এর আগে ‘ইউফোরিয়া’ নামে আরেকটি জাহাজেও গুলি চালানো হয়েছিল বলে বিবিসি জানালেও ইরানি বিবৃতিতে সেটির উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পথে। মঙ্গলবার বিকেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও তেহরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদি এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন যে, ট্রাম্পের এই ঘোষণার কোনো মূল্য নেই। 

তিনি মার্কিন অবরোধকে বোমা হামলার সাথে তুলনা করে বলেন যে, অবরোধ চালিয়ে যাওয়া এবং যুদ্ধবিরতির কথা বলা এক ধরণের প্রতারণা এবং এর জবাব সামরিকভাবেই দেওয়া হবে।

কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য পাকিস্তান ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে আলোচনা চললেও ইরান এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিনিধি দল পাঠাতে রাজি হয়নি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে, ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব না আসা পর্যন্ত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান সফরে যাবেন না। ইরানের কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধবিরতি মূলত নতুন কোনো হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার কৌশল বা সময়ক্ষেপণ মাত্র। 

হরমুজ প্রণালীর এই সাম্প্রতিক সংঘাত এবং জাহাজ জব্দ করার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

banner
Link copied!