রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

উপসাগরীয় ৫ দেশের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে ইরানের আনুষ্ঠানিক নালিশ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০১:২৬ পিএম

উপসাগরীয় ৫ দেশের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে ইরানের আনুষ্ঠানিক নালিশ

জাতিসংঘে ইরানের নালিশ

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলায় সহায়তা করার অভিযোগ এনে মধ্যপ্রাচ্যের ৫টি প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ লিপি জমা দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই কূটনৈতিক পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করেছে। 

শাফাক নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইরানের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনীকে সহযোগিতা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছে তেহরান।

ইরানের জাতিসংঘস্থ স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পাঠানো চিঠিতে এই প্রতিবাদলিপি দাখিল করেন। প্রতিবাদপত্রে ইরান দাবি করেছে যে, উল্লিখিত দেশগুলো ‘সুপ্রতিবেশী সম্পর্কের নীতি’ লঙ্ঘন করেছে। 

চিঠিতে রাষ্ট্রদূত ইরাভানি জোর দিয়ে বলেন, কোনো দেশের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা যেন ইরানের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত না হয়, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর আন্তর্জাতিক দায়িত্ব।

এই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায়। ওই হামলায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শতাধিক মানুষ নিহত হন বলে ইরান দাবি করে আসছে। 

এর জবাবে ইরানও ইরাক ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তেহরানের অভিযোগ, প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতা ছাড়া মার্কিন বাহিনীর পক্ষে ইরানের অভ্যন্তরে এমন বিধ্বংসী হামলা চালানো সম্ভব হতো না।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই পদক্ষেপ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের ভঙ্গুর সম্পর্ককে নতুন করে সংকটে ফেলবে। চিঠিতে ইরান ফেব্রুয়ারির ওই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণও সংযুক্ত করেছে বলে জানা গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কোনো বিশেষ পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। 

তবে এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও নালিশ মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

banner
Link copied!