মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে আগামী সপ্তাহে ব্রিটিশ রাজা চার্লস এবং রানি কামিলার নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় সফর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিবিসির উত্তর আমেরিকা সম্পাদক সারাহ স্মিথের সাথে পাঁচ মিনিটের এক ফোনালাপে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।
ব্রিটিশ রাজার এই সফর সম্পর্কের উন্নতি ঘটাতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি উত্তর দেন যে এটি অবশ্যই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি রাজা চার্লসকে একজন সাহসী ও চমৎকার মানুষ হিসেবে অভিহিত করেন এবং জানান যে তারা দীর্ঘ সময় ধরে একে অপরকে চেনেন।
আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই চার দিনের সফরে রাজা ও রানি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সফরের অংশ হিসেবে রাজার মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দেওয়ার এবং প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসিতে দুদিন অবস্থানের পর তারা নিউইয়র্ক, ভার্জিনিয়া এবং বারমুডা সফর করবেন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে যে এই সফর মার্কিন স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন এবং দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও ঐতিহ্যের অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করবে।
তবে রাজপরিবারের প্রতি উষ্ণ মনোভাব দেখালেও যুক্তরাজ্যের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ব্যাপারে ট্রাম্পের অবস্থান বেশ কঠোর। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে স্টারমার কেবল তখনই রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন যদি তিনি অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন আনেন এবং উত্তর সাগরে তেল-গ্যাস উত্তোলনের পথ উন্মুক্ত করেন।
এর আগে তিনি লর্ড ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। ট্রাম্পের মতে স্টারমারের বর্তমান অভিবাসন নীতি অত্যন্ত দুর্বল এবং এই পথে চললে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সংকটে পড়তে পারে।
ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গেও যুক্তরাজ্যের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান যে ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করার জন্য তার অন্য কোনো মিত্রের সাহায্যের প্রয়োজন ছিল না কিন্তু ব্রিটিশ সরকারের সমর্থন আদায়ের বিষয়টি ছিল এক ধরণের পরীক্ষা।
ইরান চুক্তিতে না আসলে সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে বলে ট্রাম্প যে হুমকি দিয়েছিলেন সে বিষয়ে পোপ এবং জাতিসংঘ প্রধান নিন্দা জানালেও ট্রাম্প তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বারবার সতর্ক করে বলেছেন যে যুক্তরাজ্য কোনো ব্যাপক যুদ্ধে জড়াতে চায় না। এই প্রেক্ষাপটে রাজার এই সফর দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক দূরত্ব কমাতে কতটুকু সক্ষম হয় সেটিই এখন দেখার বিষয়।
