শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

বায়দোয়া শহরে সশস্ত্র হামলা প্রতিহত করল সোমালি সেনা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম

বায়দোয়া শহরে সশস্ত্র হামলা প্রতিহত করল সোমালি সেনা

সোমালিয়ার দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের প্রধান শহর বায়দোয়ায় ক্ষমতাচ্যুত গভর্নরের অনুসারী সশস্ত্র গোষ্ঠীর একটি বড় ধরনের আক্রমণ সফলভাবে প্রতিহত করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী, আল জাজিরা এবং রয়টার্স জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সংঘটিত এই হামলার শুরুতে শহরে বেশ কয়েকটি তীব্র বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যা সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে ক্ষমতাচ্যুত গভর্নর আবদুল আজিজ হাসান মোহাম্মদ লাফতাগারিনের অনুগত মিলিশিয়ারা এই আক্রমণ চালিয়েছে। তবে সরকারি বাহিনী সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে হামলাকারীদের পিছু হটতে বাধ্য করেছে।

সোমালিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মো মাহমুদের সরকারের বিরুদ্ধে দেশটির বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক রাজ্য দীর্ঘদিন ধরে বিরোধিতায় লিপ্ত রয়েছে। বিশেষ করে দেশটিকে বংশীয় প্রথার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে এই রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর পাশাপাশি মধ্য ও দক্ষিণ সোমালিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আল শাবাবের দীর্ঘমেয়াদী তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় সরকার সৈন্য পাঠিয়ে গভর্নর লাফতাগারিনকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। এরপর গত মে মাসে তিনি রাজ্যটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা চালান এবং আগস্ট মাসেও সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তার অনুসারীরা রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়ায়। বৃহস্পতিবারের এই লড়াই দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে অব্যাহত ছিল বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

সংঘর্ষের সময় বায়দোয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুহুর্মুহু গোলাগুলির শব্দ ও বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়, যার ফলে সাধারণ বাসিন্দারা ঘরের ভেতর থাকতে বাধ্য হন। ক্ষমতাচ্যুত গভর্নরের পক্ষে দাবি করা হয়েছে যে তাদের যোদ্ধারা শহরের কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল এবং সংঘর্ষ এখনও চলছে। তবে স্থানীয় অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন যে প্রায় ছয় ঘণ্টা স্থায়ী লড়াইয়ের পর শহরে পুনরায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে সংঘর্ষে নিহত বা আহত যোদ্ধাদের সঠিক সংখ্যা নিরূপণে তদন্ত চলছে এবং তা সম্পন্ন হওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। একইসঙ্গে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কুখ্যাত সন্ত্রাসী সংগঠন আল শাবাবের সঙ্গে মিলে যৌথভাবে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে তৎপরতা চালাচ্ছে বলেও মন্ত্রণালয় জোরালো অভিযোগ করেছে।

banner
Link copied!