মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিশাল শ্রমিক সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামী ১ মে অনুষ্ঠিতব্য এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলের চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার রাতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উদযাপন প্রস্তুতি কমিটির একটি সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সমাবেশটি রাজনৈতিক ও শ্রমিক অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম খান জানান, বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে এই মে দিবসের সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখবেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি এবং শ্রমিক দলের বিভিন্ন স্তরের শীর্ষ নেতারাও এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে। ঢাকা মহানগরীসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলের হাজার হাজার শ্রমিক এই সমাবেশে যোগ দেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
শ্রমজীবী মানুষ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সমাবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান শ্রমিকদের বর্তমান আর্থসামাজিক অবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, কর্মক্ষেত্রের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং জীবন-জীবিকার নিশ্চয়তাসহ বেশ কিছু মৌলিক দাবি এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। সরকারে থাকলেও শ্রমিক দল তাদের অধিকার আদায়ের এই যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বিএনপি বর্তমানে ক্ষমতায় থাকলেও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার শতভাগ নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। নির্বাচনের আগে দলের ইশতেহারে শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য যেসব সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন এই প্রবীণ রাজনীতিক।
বর্তমান সরকারের কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপের কথাও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। নজরুল ইসলাম খান দাবি করেন, সরকার গঠনের পর ইতোমধ্যেই কৃষিশ্রমিক ও ক্ষুদ্র প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বেশ কিছু সময়োপযোগী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের বিষয়টি অন্যতম, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিদ্যমান শ্রম আইন সংশোধনের যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, তা শ্রমিকদের জন্য বেশ সহায়ক হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী এই আইনে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, যা নিয়ে সরকারের কাজ চলমান।
শ্রমজীবী মানুষের সামাজিক মর্যাদা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নজরুল ইসলাম খান আবেগঘন ভাষায় বলেন, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই শ্রমিকদের অনস্বীকার্য অবদান রয়েছে। শ্রমজীবী মানুষই দেশের প্রকৃত উৎপাদক শ্রেণি এবং অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তাই তারা সমাজের কাছে কেবল সহানুভূতির পাত্র নয়, বরং সর্বোচ্চ সম্মানের দাবিদার। মে দিবসের সমাবেশকে সফল করতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির এই নীতিনির্ধারক। তিনি বিশ্বাস করেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের শতবর্ষ পুরোনো এই দিনটি দেশের শ্রমখাতে একটি নতুন জাগরণ তৈরি করবে।
বৃহস্পতিবারের এই প্রস্তুতি সভা ও সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা সবাই আসন্ন মে দিবসের সমাবেশকে সফল করার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
