রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

‘শহর-গ্রামের বৈষম্য ঘুচাতে সংসদ এলাকাতেও লোডশেডিং হোক’: ডা. শফিকুর রহমান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০১:০৮ এএম

‘শহর-গ্রামের বৈষম্য ঘুচাতে সংসদ এলাকাতেও লোডশেডিং হোক’: ডা. শফিকুর রহমান

জাতীয় সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকাকে রাজধানীর সাধারণ লোডশেডিংয়ের আওতাভুক্ত করার এক ব্যতিক্রমী প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তার মতে, সাধারণ মানুষ যদি লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে পারে, তবে জনপ্রতিনিধিদের এলাকা হিসেবে সংসদ ভবন এলাকাও তার বাইরে থাকা উচিত নয়। মূলত শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুতের যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে তিনি এই দাবি জানান।

এর আগে সংসদে ৩০০ বিধিতে বিবৃতিকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুতের প্রাপ্তিতে যে বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা দূর করতে সরকার আন্তরিক। এরই অংশ হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানী ঢাকায় ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে এবং সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার সাথে ইতিবাচক আলোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে রাজধানীর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চলে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রস্তাবিত একটি কমিটিতে বিরোধী দলীয় সদস্যদের নাম প্রস্তাব করার সময় ডা. শফিকুর রহমান তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, রাজধানীতে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা যেন খোদ সংসদ এলাকা থেকেই শুরু করা হয়। বিরোধীদলীয় নেতা জোর দিয়ে বলেন, রাজধানীর অন্যান্য সাধারণ এলাকায় যেভাবে সূচি অনুযায়ী লোডশেডিং হবে, সংসদ এলাকাতেও যেন ঠিক একইভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। তিনি মনে করেন, এতে জনগণের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা যাবে যে তাদের প্রতিনিধিরাও সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টে সমান অংশীদার।

বিরোধীদলীয় নেতার এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন তোলেন। স্পিকার বলেন, “মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতা, সংসদে তো বর্তমানে অধিবেশন চলছে। এখানে যদি সাধারণ এলাকার মতো লোডশেডিং করা হয়, তবে অধিবেশন চলবে কীভাবে? সংসদীয় কার্যক্রম তো সচল রাখা অপরিহার্য।” স্পিকারের এই পর্যবেক্ষণের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি জানান, সংসদ বলতে তিনি কেবল অধিবেশন কক্ষের কথা বোঝাননি। সংসদ ভবন ছাড়াও পুরো সংসদ এলাকায় সংসদ সদস্যদের আবাসন (ন্যাম ভবন) সহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আবাসিক এলাকা রয়েছে। তিনি মূলত ওইসব এলাকাকে লোডশেডিংয়ের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সংসদের এই বিতর্ক সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যখন তীব্র লোডশেডিং চলছে, তখন রাজধানীর ভিআইপি এলাকাগুলোতে লোডশেডিং করার এই প্রস্তাবকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে কারিগরি ও নিরাপত্তা বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে লোডশেডিং কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। সরকারের এই পরীক্ষামূলক ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বিদ্যুৎ সংকটে কতটা স্বস্তি আনে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

banner
Link copied!