ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত ৯টার পর শুরু হওয়া এই সংঘাত ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় ডাকসু নেতাসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কর্তব্যরত আটজন সাংবাদিকও রয়েছেন। রাত পৌনে ১০টার দিকে আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন শাহবাগ এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক রয়েছেন। এ ছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তানজিম, আলভি ও এহসান আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আটজন সংবাদকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ঢাকা মেইলের প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত চোখ ও মুখে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিফাতকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। আহত অন্য সাংবাদিকরা হলেন—মানজুর হোছাঈন মাহি (কালের কণ্ঠ), লিটন ইসলাম (আগামীর সময়), শামসুদ্দৌজা নবাব (ঢাকা ট্রিবিউন), হারুন ইসলাম (নয়া দিগন্ত), আসাদুজ্জামান খান (মানবজমিন), নাইমুর রহমান ইমন (ডেইলি অবজারভার) এবং খালিদ হাসান (দেশ রূপান্তর)।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাত পৌনে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে আহত অবস্থায় ১২ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। বর্তমানে তারা জরুরি বিভাগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শাহবাগ থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ডাকসু নেতা মোসাদ্দেকের ওপর থানায় ঢুকে হামলার ঘটনাও ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উত্তেজনা চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে সেই উত্তেজনা প্রকাশ্য সংঘর্ষে রূপ নেয়। শাহবাগ মোড়ে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিব এবং শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা সাদিক মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে, তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই অতর্কিত সংঘাতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
