জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে কোনো সমঝোতায় না পৌঁছালে ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার যে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অচলাবস্থা ও গভীর হতাশার প্রকাশ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। তেহরানের সামরিক নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নতুন করে কোনো আগ্রাসন শুরু হলে আগের সংঘাতগুলোর চেয়েও বহুগুণ বিধ্বংসী ও অপ্রত্যাশিত পাল্টা আঘাতের মুখে পড়তে হবে মার্কিন বাহিনীকে।
তেহরান কোনো ধরণের নতি স্বীকার করবে না।
কূটনৈতিক মঞ্চে দেওয়া ট্রাম্পের এই চরম বক্তব্যের পরপরই অবশ্য নিউইয়র্কে উভয় দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন দলের দীর্ঘ তিন ঘণ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ হয়েছে। আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে দাবি করে তিনি জানান, অদূর ভবিষ্যতেই উভয় পক্ষের মধ্যে পরবর্তী আরেকটি কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
কূটনৈতিক আলোচনার ভেতরেও পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ বিস্তৃত হচ্ছে।
লোহিত সাগরে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে ওয়াশিংটনকে সরাসরি হুঁশিয়ার করে দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র আনসারুল্লাহ আন্দোলন। সানায় বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুতি সামরিক কর্মকর্তা আবেদ মোহাম্মদ আল-থাওর জানান, সৌদি আরবের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালায় তবে তা সরাসরি চরম সীমালঙ্ঘন বলে গণ্য হবে। বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার যে কোনো আমেরিকান চেষ্টাকে প্রতিহত করা হবে এবং এমনটি ঘটলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি মার্কিন সামরিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। এর আগে একটি মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সপ্তাহান্তে হুতিদের লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলার পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করার নির্দেশ দেন ট্রাম্প।
এদিকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসের পশ্চিমে ইসরায়েলি সৈন্যদের ছোড়া গুলিতে এক বৃদ্ধ ফিলিস্তিনি নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের চিকিৎসকেরা জানান, বর্তমান ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার বাইরে অবস্থানকালে ওই নারীকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালানো হয়।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও রক্তপাত থামেনি।
দিনের শেষভাগে মধ্য গাজা শহরে চালানো একটি পৃথক ড্রোন হামলায় আরেকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় জরুরি অ্যাম্বুলেন্স বিভাগ জানিয়েছে, এই মৃত্যুর মাধ্যমে আজ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলায় নিহতের সংখ্যা অন্তত ছয়জনে পৌঁছেছে। এর আগে আল-মাওয়াসির উপকূলীয় এলাকায় দুজন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাস্তুচ্যুত শিবিরে একজন, বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একজন এবং দেইর আল-বালাহ শহরে আরও একজন নিহত হন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গত ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে প্রায় প্রতিদিনই সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।
