নিউইয়র্কে জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবসান ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় দীর্ঘ পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি মুখোমুখি বসেছিলেন নাকি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় করেছেন, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করা হলেও জলপথ খোলার জন্য স্পষ্ট কিছু পূর্বশর্ত সামনে এনেছে তেহরান।
কূটনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্রে ছিল পরোক্ষ যোগাযোগ।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, মধ্যস্থতাকারীরা সারাদিন ধরে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেছেন। এক ধাপ আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং আশা করা যাচ্ছে এটি একটি গঠনমূলক সমাধানের পথ তৈরি করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তার বিশেষ দূত উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি তিন ঘণ্টার একটি ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন এবং চুক্তির পথে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। পরবর্তীতে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয় যে ট্রাম্প ওই আলোচনায় নিজে উপস্থিত ছিলেন না।
সরাসরি বৈঠক নিয়ে তেহরানের অবস্থান ভিন্ন।
ইরানি রাষ্ট্রীয় মাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও মার্কিন প্রতিনিধিদের যোগাযোগের প্রক্রিয়াটি মূলত কাতারের মধ্যস্থতায় পরিচালিত হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে রাখা জাতীয় আর্থিক তহবিল অবমুক্ত করা এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ করার শর্ত তুলে ধরা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটন যদি সামরিক চাপ হ্রাস করে এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়, তবে মাত্র সাত দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করতে প্রস্তুত তেহরান। গত ১৬ সেপ্টেম্বর এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে পাঠানো হয়েছিল।
উত্তেজনা নিরসনে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক দেশগুলোও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জসিম আল থানি নিউইয়র্কে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কাতারের পাশাপাশি পাকিস্তান ও ওমান নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা এবং কূটনৈতিক আলোচনার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। এর পাশাপাশি ট্রাম্প উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত দেশগুলোর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাদা আলোচনায় অংশ নেন, যেখানে উপসাগরীয় দেশ ও ইরানের সমন্বয়ে একটি নিরাপত্তা কাঠামোর প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।
কূটনৈতিক এই উদ্যোগের কয়েক ঘণ্টা আগেই অবশ্য জাতিসংঘ মঞ্চে তীব্র বক্তব্য দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি ভাষণে দাবি করেন, সমঝোতায় পৌঁছানো না গেলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার বিকল্পও তার সামনে রয়েছে। জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনীর যৌথ সদর দপ্তর এই হুমকিকে প্রতিপক্ষের কৌশলগত দুর্বলতা হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছে, যেকোনো সামরিক দুঃসাহসের জবাবে অতীতের চেয়ে অনেক বেশি অপ্রত্যাশিত ও ধ্বংসাত্মক আঘাত হানা হবে।
