বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দাবি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দাবি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে চলমান সাধারণ অধিবেশনে ফিলিস্তিনের পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার পক্ষে একযোগে অবস্থান নিয়েছে ফ্রান্স, কানাডা ও যুক্তরাজ্য। একইসঙ্গে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় জরুরি মানবিক ত্রাণ সরবরাহে ইসরায়েলি বাধার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চরম নিষ্ক্রিয়তাকে সরাসরি লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেছে প্যারিস। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে দেওয়া ভাষণে সতর্ক করে জানান, প্রতিবেশীদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে কোনো দেশের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে পারে না।

বিশ্ববাসীর সামনে মানবিক সংকট তীব্রতর হচ্ছে।

নিউইয়র্কের সম্মেলন মঞ্চে দেওয়া এক আবেগপূর্ণ ভাষণে ম্যাক্রোঁ উল্লেখ করেন, এক বছর আগে যে এক ডজন দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল ফ্রান্স তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি বিশ্বনেতাদের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, গাজার এই ধ্বংসযজ্ঞের মুখে যদি সবাই নিষ্ক্রিয় বসে থাকে তবে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার আর কোনো নৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা অবশিষ্ট থাকে না। তথাকথিত যুদ্ধবিরতির সমালোচনা করে তিনি জানান, কিছু পক্ষ কাল্পনিক শান্তির কথা বলে আত্মতৃপ্তি পেলেও তা এক সেকেন্ডের জন্যও খাদ্য ও ওষুধের মতো মানবিক সরবরাহ পথ উন্মুক্ত করতে পারেনি। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ধারাবাহিক ভূমি দখল ও সামরিক অভিযান ইসরায়েলের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

কূটনৈতিক এই আহ্বানের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিশ্রুতির ঘোষণা এসেছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মধ্যপ্রাচ্যে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সাত কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘদিনের মানবিক বিপর্যয় নিরসনে সহায়ক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে এই অর্থ ব্যয় করা হবে বলে অটোয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীও সাধারণ অধিবেশনে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলা বর্তমান অমানবিক দুর্ভোগে লন্ডন হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।

সম্মেলনের ভেতরে যখন শান্তির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে, বাইরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সামরিক আঘাত অব্যাহত রয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত তথাকথিত যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকা সত্ত্বেও মঙ্গলবার গাজা সিটিতে চালানো হামলায় অন্তত তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত গাজা উপত্যকায় ৭৩ হাজার ৯০০ জনের বেশি সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণার পরও বিভিন্ন হামলায় নিহত হয়েছেন এক হাজার ৩৯৯ জন ফিলিস্তিনি।

banner
Link copied!