বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

জ্বালানি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব

রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে প্রস্তুত জেলেনস্কি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম

রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে প্রস্তুত জেলেনস্কি

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মতির কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি স্পষ্ট করেছেন, মস্কো যদি ইউক্রেনের বেসামরিক বিদ্যুৎ, হিটিং এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধ রাখে, তবে কিয়েভও রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর ওপর পাল্টা আক্রমণ পুরোপুরি বন্ধ করতে প্রস্তুত রয়েছে।

কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে ছিল আসন্ন শীতকালীন জ্বালানি সংকট।

নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দুই নেতার মধ্যে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে রুদ্ধদ্বার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৈঠকটিকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আখ্যা দিয়ে জেলেনস্কি জানান, শীতের তীব্রতা শুরুর আগেই এই অর্থহীন যুদ্ধের অবসান চায় ওয়াশিংটন ও কিয়েভ। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে একতরফাভাবে রাশিয়ার তেল অবকাঠামোয় হামলা থামানোর কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি এবং ট্রাম্পও এমন কোনো শর্ত চাপিয়ে দেননি। বরং উভয় পক্ষের জ্বালানি ক্ষেত্রকে হামলার আওতামুক্ত রাখার এই বার্তা মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্রেমলিনের কাছে পৌঁছানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়ছে।

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যখন ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার, তখন রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের জানান, ইউক্রেনীয় অভিযানে রাশিয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে ডিজেলের দামেও বড় ধাক্কা লেগেছে। গত সপ্তাহে দুই দেশের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে একটি সাময়িক সমঝোতার ইঙ্গিত দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে আক্রমণ থামেনি। ক্রেমলিন এর আগে জ্বালানি নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেওয়ার শর্ত যুক্ত করার দাবি জানালেও কিয়েভ তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।

যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের ভেতরেই নতুন করে সামরিক সংঘাতের আভাস মিলেছে।

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠকের পর জেলেনস্কি সতর্কবার্তা দিয়ে জানান, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে রাশিয়া খুব শিগগিরই তাদের ভূখণ্ডে আরেকটি বড় ধরনের আক্রমণ চালানোর পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, ইউক্রেনীয় নাগরিকরা যেখানে প্রতিনিয়ত বোমাবর্ষণের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, সেখানে রাশিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রশ্নই ওঠে না।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উভয় পক্ষের দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা নজিরবিহীন রূপ নিয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ইউক্রেনজুড়ে প্রায় ২০০ ড্রোন নিক্ষেপ করে মস্কো, যা রাজধানী কিয়েভের জ্বালানি সংরক্ষণাগারসহ বিভিন্ন বন্দর অবকাঠামোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর জবাবে ইউক্রেন সীমান্ত থেকে তিন হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত দীর্ঘপাল্লার ড্রোন পাঠিয়ে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত হানে। গত ২০ সেপ্টেম্বর চালানো এক সফল হামলায় মস্কো তেল শোধনাগারের অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যেখানে ২০২৪ সালে দৈনিক প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল প্রক্রিয়াজাত করা হতো।

banner
Link copied!