রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটে ঐতিহাসিক রেকর্ড: তৃণমূলের দাবি ‘অধিকার রক্ষার লড়াই’

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০১:১৮ এএম

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটে ঐতিহাসিক রেকর্ড: তৃণমূলের দাবি ‘অধিকার রক্ষার লড়াই’

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোটদানের হারে তৈরি হয়েছে নতুন ইতিহাস। নির্বাচন কমিশন (CEO) থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ১৫২টি আসনে গড়ে ৯২.০৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। ১৯৫১ সালের পর থেকে এ রাজ্যে এটিই সর্বোচ্চ ভোটদানের রেকর্ড। এই অভূতপূর্ব জনজোয়ার নিয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কলকাতার চৌরঙ্গী ও বউবাজার এলাকায় আয়োজিত জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, এই বিশাল উপস্থিতি আসলে মানুষের নিজেদের ‘অধিকার রক্ষার লড়াই’।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার বক্তব্যে রেকর্ড ভোটদানের পেছনে কেন্দ্র সরকারের একাধিক নীতি ও তার ফলে সৃষ্ট আতঙ্ককে কারণ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মানুষ মনে করছেন এটা তাদের অস্তিত্ব ও অধিকার রক্ষার লড়াই। ডিলিমিটেশন (সীমানা পুনর্নির্ধারণ) এবং এনআরসি (জাতীয় নাগরিক পঞ্জি) নিয়ে মানুষ অত্যন্ত ভীত ছিল। তারা বুঝেছে যে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট না দিলে তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হতে পারে।” মুখ্যমন্ত্রীর মতে, সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন এই নির্বাচন কেবল প্রতিনিধি নির্বাচনের নয়, বরং নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণের এক বড় হাতিয়ার। তিনি আরও যোগ করেন, “মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত সাড়াই বলে দিচ্ছে যে তৃণমূল ইতোমধ্যেই জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে।”

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জেলাভিত্তিক ভোটদানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর, যেখানে ৯৫.২২ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর ঠিক পরেই রয়েছে কোচবিহার (৯৫.১৭%) এবং বীরভূম (৯৪.১৯%)। মুর্শিদাবাদে, যেখানে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভোটারের নাম ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR) এর আওতায় বাদ দেওয়া হয়েছিল, সেখানেও ৯৩.০৭ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ভয় এবং পরবর্তী আইনি লড়াইয়ের পর ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার উদ্দীপনা সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে বুথমুখী করেছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের এই আত্মবিশ্বাসের বিপরীতে সুর চড়িয়েছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক প্রতিক্রিয়ায় এই বিশাল ভোটদানকে ‘তৃণমূল শাসনের অবসান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, “আমি কোনো পদের জন্য লালায়িত নই। আমি কেবল দিল্লি থেকে বিজেপি সরকারের অবসান চাই। আর বাংলার মানুষ সেই লক্ষ্যেই আজ ব্যালটে জবাব দিয়েছেন।” তিনি ডিলিমিটেশন বিলের মাধ্যমে বাংলার আসন সংখ্যা কমানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগও পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রথম দফার এই রেকর্ড ভোটদান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও একটি বিষয় স্পষ্ট যে, ২০২৬-এর এই নির্বাচনে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত সচেতন। বিচ্ছিন্ন কিছু হিংসার ঘটনা ছাড়া বড় কোনো অশান্তি না হওয়ায় ভোটদাতারা নির্ভয়ে তাদের রায় দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চৌরঙ্গীর এই বক্তব্য তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার বিষয়, আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটেও এই রেকর্ড অক্ষুণ্ণ থাকে কি না।

banner
Link copied!