রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬: প্রথম দফায় ১২৫ আসনের দাবি তৃণমূলের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১১:২৭ এএম

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬: প্রথম দফায় ১২৫ আসনের দাবি তৃণমূলের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পরপরই বড় ধরনের জয়ের দাবি তুলে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি অনুযায়ী প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে তারা অন্তত ১২৫টিতে জয়লাভ করতে চলেছে। এমনকি দলের অভ্যন্তরীণ হিসাব বলছে এই সংখ্যা ১৩৫ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যদি এই দাবি সত্য হয় তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করার পথে অনেকখানি এগিয়ে যাবে। তৃণমূলের এই আত্মবিশ্বাস মূলত ভোটের উচ্চ হার এবং নারী ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে।

কলকাতার বৌবাজার এলাকায় এক নির্বাচনী সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি ভোটারদের অংশগ্রহণের প্রশংসা করে বলেন যে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেরিয়ে এসে তৃণমূলের পক্ষে রায় দিয়েছে। তবে একই সাথে তিনি ভোটার তালিকা থেকে বহু বৈধ নাম বাদ পড়ার অভিযোগ তুলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মমতার মতে মানুষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতেই এবার ভোটকেন্দ্রে বেশি ভিড় করেছে। বিশেষ করে যারা এবার প্রথমবারের মতো ভোট দিয়েছেন বা যারা দীর্ঘকাল ধরে তৃণমূলের সমর্থক তাদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিবাদী মনোভাব কাজ করেছে বলে দলীয় সূত্রগুলো দাবি করছে।

তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এবং রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে জয়ের এই সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। কুণাল ঘোষ সরাসরি দাবি করেন যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবার নিজের আসনেই পরাজিত হতে চলেছেন। তার মতে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুরের মতো হাই-প্রোফাইল আসনগুলোতে তৃণমূলের জয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। যদিও বিরোধী শিবির বিজেপির পক্ষ থেকেও পাল্টা দাবি করা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী একই দিনে দাবি করেছেন যে বিজেপি প্রথম দফায় ১২৫টি আসন পাবে। দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলের এমন বিপরীতমুখী দাবি রাজনৈতিক উত্তেজনাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।

ব্রাত্য বসু ভোটের এই উচ্চ হারকে সরকারবিরোধী ঢেউ হিসেবে মানতে নারাজ। তিনি বিহারের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেন যে অনেক সময় উচ্চ ভোটদানের হার শাসক দলের পক্ষেও যায়। তৃণমূলের কৌশলবিদরা মনে করছেন দক্ষিণবঙ্গের যে ‘দুর্গ’ এলাকাগুলো পরবর্তী দফায় রয়েছে সেখানে বিজেপির জন্য লড়াই আরও কঠিন হবে। তাদের মতে প্রথম দফার এই সম্ভাব্য ফল যদি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয় তবে চতুর্থবারের মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গঠন কেবল আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। দলটির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই সুরে কথা বলেছেন এবং জানিয়েছেন যে তাদের পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ীই ফলাফল আসতে চলেছে।

ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়া এবং মৃত ব্যক্তিদের নাম থাকা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তা নিয়ে সরব হয়েছে সব পক্ষই। তৃণমূলের দাবি বৈধ ভোটারদের নাম পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হলেও যারা ভোট দিতে পেরেছেন তারা কোনো ঝুঁকি নেননি। বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনমুখী প্রকল্পগুলোর প্রভাব নারী ভোটারদের মধ্যে তৃণমূলের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বোদ্ধারা এখন তাকিয়ে আছেন দ্বিতীয় দফার দিকে যেখানে দক্ষিণবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর ভাগ্য নির্ধারিত হবে। তবে প্রথম দফার শেষে তৃণমূলের এই ১২৫ আসনের দাবি বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে যা গণনার দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

banner
Link copied!