ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত সহিংস বিক্ষোভের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৪১ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইতালিয়া ইন পিয়াজ্জা আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিক্ষোভের মূল লক্ষ্য ছিল ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির মূল্য এবং করের চাপ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মিলানে প্রায় ৫ হাজার, তুরিনে ৩ হাজার, বোলোগনায় ২ হাজার, বার্গামোতে ৮০০ এবং ব্রেশিয়ায় ৬০০ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মোট ১৯৭ জনকে চিহ্নিত করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ৪৩ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মিলানে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যেখানে বিক্ষোভকারীদের একটি দল পুলিশের ব্যারিকেডের দিকে পাথর, বোতল, পটকা ও বেষ্টনী ছুড়ে মারে। এর জবাবে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।
বিক্ষোভের সময় মিলানের কেন্দ্রস্থলের বিভিন্ন দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। উত্তরাঞ্চলীয় এই শহরে কারাবিনিয়েরি বা আধা সামরিক পুলিশের একটি গাড়িও সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
খুচরা বিক্রেতাদের সংগঠন কনফকমেরসিওর প্রাক্কলন অনুযায়ী, মিলানের দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষতির পরিমাণ ৫ লাখ ইউরো ছাড়িয়ে গেছে, যা প্রায় ৫ লাখ ৬১ হাজার ৮৬০ মার্কিন ডলারের সমান।
তুরিনে পুলিশ সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে এবং মলোটভ ককটেল বহনকারী তিনজন নাবালককে আটক করে। এ ছাড়া একটি দল পোর্টাল নুোভা স্টেশনের ফেলত্রিনেলি বইয়ের দোকানে ঢুকে মেঝেতে বই ছুড়ে ফেলে।
রেলস্টেশনের কাছাকাছি সংঘর্ষের পর বোলোগনায় পাঁচজন নাবালককে গ্রেপ্তার করা হয়। বিক্ষোভকারীরা বোতল, পাথর ও ব্যারিকেড ছুড়লে পুলিশ ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।
প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং বিরোধী দলগুলোকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই সহিংসতার নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন যে হাজার হাজার নাগরিক শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করেছেন।
উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে তার দল লিগ সংসদে একটি নতুন প্রস্তাব পেশ করবে। এই প্রস্তাব পাস হলে ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত বিক্ষোভের আয়োজকদের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি পূরণের জন্য আর্থিক নিশ্চয়তা দিতে হবে।
মিলানের মেয়র জুসেপ্পে সালা বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের অর্থনৈতিক ক্ষোভ বোধগম্য, তবে পুলিশের ওপর হামলা এবং ব্যাপক নগর ধ্বংসযজ্ঞ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বোলোগনার মেয়র মাত্তেও লেপোরেও এই সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যারা জনসভার সুযোগ নিয়ে সহিংসতা চালায়, তাদের থেকে যেন দূরে থাকে।
