বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে যুক্তরাজ্যের এসেক্সের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ডাটা সেন্টার প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়িয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট। এই সিদ্ধান্তের ফলে উচ্চাভিলাষী এই ব্রিটিশ প্রকল্পটি তার প্রধান গ্রাহক ও অংশীদারকে হারাতে বসেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান এনস্কেলের এই উদ্যোগটি আগামী বছর লাউটনে চালু হওয়ার কথা ছিল। গত বছর দেশটির জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কৌশল ঘোষণা করার সময় মন্ত্রীরা এই স্থাপনাটিকে দেশজুড়ে এ ধরনের সর্ববৃহৎ প্রকল্প হিসেবে প্রশংসা করেছিলেন।
চ্যাটবটের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশনগুলোর মূল স্নায়ুতন্ত্র হিসেবে কাজ করে ডাটা সেন্টারগুলো। তবে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতার কারণে গ্রিড সংযোগ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার শঙ্কা তৈরি হওয়ায় গত মাসেই লাউটনের এই সাইটের কাজ বিলম্বিত হয়েছিল।
এসেক্সের এই সাইট নিয়ে চুক্তি শেষ করার কথা ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটিকে জানিয়ে দিয়েছে মাইক্রোসফট। বিশাল এই স্থাপনার প্রধান বা অ্যাঙ্কর গ্রাহক হিসেবে প্রযুক্তি জায়ান্টটির ভূমিকা পালন করার কথা ছিল।
মাইক্রোসফটের এই সরে দাঁড়ানো এনস্কেলের জন্য একটি বড় ধাক্কা, কারণ লাউটনের এই ডাটা সেন্টারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অন্য কোনো গ্রাহকের নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এনভিড্রিয়ার মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সমর্থন রয়েছে এনস্কেলের পেছনে।
এই চুক্তি বাতিল হয়ে যাওয়ায় চলতি বছর ওয়াল স্ট্রিটে তালিকাভুক্ত হওয়ার এনস্কেলের উচ্চাভিলাষ কিছুটা জটিলতার মুখে পড়তে পারে। প্রতিষ্ঠানটি তিন হাজার ৫০০ কোটি ডলার বা দুই হাজার ৬০০ কোটি পাউন্ড সমপরিমাণ বাজারমূল্য অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল।
এসেক্সের প্রকল্পটি বাতিল হলেও নরওয়েতে অবস্থিত অন্য একটি স্থাপনার জন্য এনস্কেলের সঙ্গে মাইক্রোসফটের অংশীদারিত্ব অব্যাহত রয়েছে।
এনস্কেলের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে লাউটন সাইট এবং বৃহত্তর ব্রিটিশ বাজার দুটির প্রতিই তাদের প্রতিষ্ঠান প্রতিশ্রুতবদ্ধ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের অন্যান্য সম্ভাব্য সম্প্রসারণের জায়গার পাশাপাশি এই লোকেশনের জন্য বিকল্প বিদ্যুৎ উৎসের সন্ধান করছে প্রতিষ্ঠানটি।
ওই মুখপাত্রের মতে, মাইক্রোসফটের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এখনো দৃঢ় রয়েছে এবং আঞ্চলিক গ্রিড সংক্রান্ত জটিলতা তাদের অন্য চুক্তিগুলোকে প্রভাবিত করবে না।
