রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

মার্কিন অভিবাসী ভিসা বন্ধ: তালিকায় বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশ, যা জানা যাচ্ছে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০২:১৮ পিএম

মার্কিন অভিবাসী ভিসা বন্ধ: তালিকায় বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশ, যা জানা যাচ্ছে

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত! ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ শনিবার সকালে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। 

স্টেট ডিপার্টমেন্টের এই পদক্ষেপের ফলে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই ভিসা স্থগিতাদেশের তালিকায় বাংলাদেশের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে দূতাবাসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এই স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। 

পর্যটক ভিসা, শিক্ষার্থী ভিসা এবং অন্যান্য অনভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে বর্তমান প্রক্রিয়া যথারীতি চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে।মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে জানা গেছে যে এই ৭৫টি দেশের অভিবাসীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জনকল্যাণমূলক সহায়তা বা পাবলিক বেনিফিট গ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। 

মূলত মার্কিন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত এই সব সামাজিক সুরক্ষা খাতের ব্যয় কমাতেই ওয়াশিংটন এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে যে অভিবাসীদের মাধ্যমে মার্কিন কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হওয়া রোধ করতে আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া এখন নতুন করে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। এই পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য নতুন কোনো অভিবাসী ভিসা ইস্যু করা হবে না।

স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা দেশগুলোর তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল, পাকিস্তান, ভুটান এবং আফগানিস্তানের নাম রয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশ এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। 

মার্কিন দূতাবাসের বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে জনকল্যাণমূলক সহায়তা নিতে পারেন কি না তা নিশ্চিত করতেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হচ্ছে। মূলত যারা ভবিষ্যতে আমেরিকার জন্য আর্থিক বোঝা হতে পারেন বলে মনে করা হবে তাদের ক্ষেত্রে অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার ইঙ্গিত মিলেছে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন ভিসা নীতির তালিকায় থাকা অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া, ইরান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, মিশর, নাইজেরিয়া এবং ব্রাজিল। এছাড়া কিউবা, হাইতি, কম্বোডিয়া এবং উজবেকিস্তানের মতো দেশগুলোও এই স্থগিতাদেশের কবলে পড়েছে। 

স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে মার্কিন অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভারসাম্য বজায় রাখতে তারা এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাসগুলো এখন থেকেই আবেদনকারীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য বা নথিপত্র দাবি করতে পারে তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত নতুন আবেদনগুলোর প্রক্রিয়া থমকে থাকবে।

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি লিংক শেয়ার করে বিস্তারিত তথ্য জানতে পাঠকদের অনুরোধ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন অনুযায়ী যারা সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা রাখেন তাদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার আইনি ভিত্তি রয়েছে। এই স্থগিতাদেশ কতদিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনো জানানো হয়নি। 

তবে ধারণা করা হচ্ছে যে স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিশেষ সেল প্রতিটি দেশের জন্য আলাদাভাবে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরেই কেবল পর্যায়ক্রমে এই স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হতে পারে। এই পরিস্থিতির ফলে হাজার হাজার বাংলাদেশি অভিবাসন প্রত্যাশীর অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

banner
Link copied!