ভেনেজুয়েলা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের একান্নতম অঙ্গরাজ্য হিসেবে যুক্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টিতে নির্বাচনী সমাবেশে এই মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশ থেকে এক মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে আসা একটি ট্যাংকার প্রদর্শন করছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির দীর্ঘসময়ের নেতা নিকোলা মাদুরোকে আটকের ঠিক নয় মাস পর এই জনসভা অনুষ্ঠিত হলো। কারাকাসে তার বাসভবনে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে হেফাজতে নেয় মার্কিন বাহিনী। পরে ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি করতে তাকে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়।
সমাবেশে ট্রাম্প উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত তেল চুক্তি অনুযায়ী বিলিয়ন বিলিয়ন ব্যারেল তেল পাবে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলা একটি সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অচিরেই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের একান্নতম অঙ্গরাজ্যে রূপ নিতে পারে।
ট্রাম্পের দখল বা অধিগ্রহণের তালিকায় এর আগে যুক্ত হয়েছে গ্রিনল্যান্ড, কানাডা ও মেক্সিকোর মতো দেশ ও অঞ্চল। সেই দীর্ঘ তালিকায় এবার নতুন সংযোজন হলো ভেনেজুয়েলা।
জনমত জরিপে যখন তার জনপ্রিয়তা রেকর্ড পরিমাণে নিচে নেমে গেছে, ঠিক তখন ভেনেজুয়েলা অভিযানকে নিজের সফলতার বড় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগামী সপ্তাহে মধ্যবর্তী নির্বাচনে কোটি কোটি মার্কিন নাগরিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, যেখানে তার এই আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতি ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানি চুক্তির প্রয়োজনীয়তা চরম আকার ধারণ করে, যে পথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের বিশ শতাংশ পরিবাহিত হয়।
টেক্সাসের সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, আলাস্কা থেকে ভেনেজুয়েলা পর্যন্ত জ্বালানি শক্তির উন্মুক্ত ব্যবহার পশ্চিম গোলার্ধকে বিশ্বের জ্বালানি রাজধানীতে পরিণত করেছে। খুব দ্রুতই জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে আসবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
সমাবেশস্থলের অদূরে টেক্সাস উপকূলে নোঙর করা জাহাজটির দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প এই তেল চুক্তিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি বিজয় বলে অভিহিত করেন। মার্কিন করদাতাদের পকেট থেকে এক টাকাও খরচ না করে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে এই তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এই তেল চুক্তি নিয়ে নানা মহলে শুরু হয়েছে কঠোর সমালোচনা। ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে দেশটিতে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। অথচ দেশটির গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বর্তমান মার্কিন প্রশাসন কোনো জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা।
