রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

ব্রেকিং নিউজ

ইরান যুদ্ধের ৬০তম দিন: হরমুজ প্রণালী খোলার শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনায় ট্রাম্পের টিম

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম

ইরান যুদ্ধের ৬০তম দিন: হরমুজ প্রণালী খোলার শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনায় ট্রাম্পের টিম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া ভয়াবহ যুদ্ধের ৬০তম দিনে আজ এক বড় ধরনের কূটনৈতিক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল বর্তমানে ইরানের পক্ষ থেকে আসা একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। 

তেহরানের এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া। তবে এই পরিকল্পনায় একটি বড় শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে—ইরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা আপাতত স্থগিত রেখে পরবর্তী কোনো এক সময়ে আলোচনার টেবিলে তোলা হবে।

এই কূটনৈতিক তৎপরতা এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। বৈঠক শেষে আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা আলোচনার অনুরোধটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। 

যদিও আরাগচি এই ব্যর্থতার জন্য ওয়াশিংটনকেই দায়ী করেছেন, তবুও যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে রাশিয়ার মধ্যস্থতা ও আরাগচির কূটনৈতিক সফর ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, উভয় পক্ষই এখন যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে আলোচনার টেবিলে ফেরার পথ খুঁজছে। বিশেষ করে তেহরান থেকে লিখিত বার্তা পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারের জন্য দুঃসংবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালীর বর্তমান স্থবিরতা। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। বর্তমানে কয়েক ডজন দেশ বাহরাইনের নেতৃত্বে এক যৌথ বিবৃতিতে এই প্রণালীটি "অবিলম্বে এবং বাধাহীনভাবে" খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। 

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন যে, যদি এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হয়, তবে বিশ্ব ২০২০ সালের কোভিড মহামারি বা ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ সরবরাহ চেইন বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। তেহরান অবশ্য দাবি করেছে যে, তাদের প্রস্তাবিত নতুন জাতীয় আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী পরিচালনার পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর হাতে।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই শান্তি প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার তার শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এই দলে রয়েছেন জেডি ভ্যান্স, জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প সম্ভবত অর্থনৈতিক চাপের মুখে ইরানের এই প্রস্তাব মেনে নিতে পারেন। 

সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা হেনরি এস এনশার আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বর্তমানে ওয়াশিংটনের প্রধান অগ্রাধিকার হলো হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া। যদিও পরমাণু ইস্যুটি সমাধান করা কঠিন হবে, তবুও আপাতত এটিকে যুদ্ধের আলোচনার বাইরে রাখা ইরানের জন্য একটি "কৌশলগত বিজয়" হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুদ্ধের ময়দানে উত্তজনা এখনো কমেনি। ইরান সম্প্রতি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে "সমুদ্রপথে ডাকাতির" অভিযোগ তুলেছে। ম্যাজেস্টিক এক্স এবং টিফানি নামক দুটি ইরান-সংশ্লিষ্ট তেল ট্যাঙ্কার আটকের ঘটনাকে তেহরান সরাসরি জলদস্যুতা হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, জেডি ভ্যান্স যদি এই শান্তি প্রক্রিয়া সফল করতে পারেন, তবে তিনি ট্রাম্পের সমর্থক গোষ্ঠীর (MAGA) কাছে এক অনন্য নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

 তবে সমালোচকরা সতর্ক করেছেন যে, কুশনার বা ভ্যান্সের মতো কর্মকর্তাদের পরমাণু ইস্যুতে গভীর কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আলোচনার ক্ষেত্রে একটি বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়াতে পারে। যুদ্ধের ৬০তম দিনে এসে পৃথিবী এখন রুদ্ধশ্বাসে তাকিয়ে আছে ট্রাম্পের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

banner
Link copied!