রবিবার, ০৩ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

সাংবাদিক আন্দজেই পচবুতকে মুক্তি দিল বেলারুশ: পশ্চিমাদের সঙ্গে সুসম্পর্কের ইঙ্গিত লুকেশেঙ্কোর

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১০:১৯ পিএম

সাংবাদিক আন্দজেই পচবুতকে মুক্তি দিল বেলারুশ: পশ্চিমাদের সঙ্গে সুসম্পর্কের ইঙ্গিত লুকেশেঙ্কোর

বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকেশেঙ্কো পশ্চিমাদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক পুনরায় উষ্ণ করার লক্ষ্য নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার পোলিশ-বেলারুশীয় সাংবাদিক আন্দজেই পচবুতকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছে মিনস্ক। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক আজ ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

পোল্যান্ড ও বেলারুশের মধ্যে একটি জটিল বন্দী বিনিময়ের মাধ্যমে এই মুক্তি সম্ভব হয়েছে, যেখানে মোট ১০ জন বন্দীকে উভয় পক্ষ থেকে বিনিময় করা হয়। টাস্ক জানিয়েছেন যে, এই সফল কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় পোল্যান্ডকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রোমানিয়া এবং মলদোভা।

আন্দজেই পচবুত পোলিশ সংবাদপত্র গ্যাজেটা ওয়াইবোরজার সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করতেন। ২০২১ সালে বেলারুশীয় কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে এবং পরবর্তীতে একটি বিতর্কিত বিচারে তাকে আট বছরের শ্রম শিবিরে দণ্ড দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং পশ্চিমা দেশগুলো শুরু থেকেই এই বিচারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করে আসছিল। 

বন্দিদশায় থাকাকালীন পচবুতের শারীরিক অবস্থা নিয়ে গত কয়েক বছরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ডোনাল্ড টাস্ক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তার মুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন যে, পচবুত এখন তার পোলিশ বাড়িতে ফিরে এসেছেন। তিনি এই সফলতাকে দুই বছর ধরে চলা এক দীর্ঘ ও সূক্ষ্ম কূটনৈতিক খেলার চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে অভিহিত করেছেন।

পোল্যান্ড ও বেলারুশের সীমান্তের এক গোপন স্থানে এই ‘পাঁচ বনাম পাঁচ’ বিনিময়ের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। পচবুত ছাড়াও বেলারুশ পোলিশ ধর্মযাজক গ্রজেগর্জ গাউয়েল এবং আরও একজন বেলারুশীয় নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে যিনি পোলিশ গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তা করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। বিনিময়ের তালিকায় রুশ ও মলদোভান নাগরিকরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। 

এই মুক্তি প্রক্রিয়ার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে পোলিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাডোস্লাভ সিকোরস্কি বেলারুশ বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত জন কোলের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। পরে জন কোলে জানান যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তিনজন পোলিশ এবং দুইজন মলদোভান নাগরিকের মুক্তি নিশ্চিত করতে সরাসরি ভূমিকা পালন করেছে।

মার্কিন বিশেষ দূত জন কোলে এই সাফল্যের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিশেষ প্রশংসা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকা তার মিত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং এমন সব কূটনৈতিক বিজয় অর্জন করছে যা অন্য কারো পক্ষে সম্ভব ছিল না। লুকেশেঙ্কোর এই নমনীয় মনোভাবকে বিশ্লেষকরা এক বড় রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। 

ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযানে সমর্থনের কারণে বেলারুশ আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। এখন বন্দী মুক্তির মাধ্যমে লুকেশেঙ্কো সম্ভবত ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের সঙ্গে পুনরায় আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত করতে চাইছেন।

আন্দজেই পচবুত গত এক দশকে বেলারুশে অসংখ্যবার গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ২০১১ সালে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় তাকে প্রথম জেল খাটতে হয়। 

পরবর্তীতে লুকেশেঙ্কোকে অবমাননার অভিযোগে তাকে বারবার আটক করা হয়েছে। তার এই দীর্ঘ লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ইউরোপীয় পার্লামেন্ট তাকে এবং জর্জীয় সাংবাদিক মজিয়া আমাগ্লোবেলিকে মর্যাদাপূর্ণ শাখারভ পুরস্কারে ভূষিত করেছিল। পচবুতের মুক্তি কেবল একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নয়, বরং মধ্য ইউরোপের রাজনীতিতে এক নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

banner
Link copied!