শনিবার, ০৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

ব্রিটিশ নির্বাচনে স্টারমারের বিপর্যয়: পদত্যাগের চাপে প্রধানমন্ত্রী

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৮, ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

ব্রিটিশ নির্বাচনে স্টারমারের বিপর্যয়: পদত্যাগের চাপে প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং তার দল লেবার পার্টি। মাত্র দুই বছর আগে সাধারণ নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পর ক্ষমতায় আসা স্টারমারের জনপ্রিয়তায় এখন ধস নেমেছে। শুক্রবার নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল আসার পর দেখা গেছে, লেবার পার্টি তাদের শক্ত ঘাঁটিগুলোতেও শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে। এই পরাজয়ের ফলে স্টারমারের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এবং তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে।

নির্বাচনের এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফল অনুযায়ী, নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন অভিবাসনবিরোধী দল ‘রিফর্ম ইউকে’ সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে। কট্টর ডানপন্থী এই দলটি ইতিমধ্যে কাউন্সিলগুলোতে ৫০১টি আসন লাভ করেছে। ইংল্যান্ডের ১৩৬টি কাউন্সিলের মধ্যে ৬০টির ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লেবার পার্টি হারিয়েছে ৩৩৮টি আসন। বিশেষ করে উত্তর ইংল্যান্ড এবং মিডল্যান্ডসের তথাকথিত ‘রেড ওয়াল’ এলাকায়, যা দীর্ঘকাল লেবার পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে রিফর্ম ইউকে বড় জয় পেয়েছে। উইগান, বোল্টন এবং স্যালফোর্ডের মতো শহরগুলোতে লেবার পার্টির ভরাডুবি হয়েছে। উইগানে লেবার পার্টি গত ৫০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকলেও এবার সেখানে রিফর্ম ইউকে সব কটি আসনেই জয়লাভ করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারের এই বিপর্যয়ের পেছনে বড় কারণ হলো সাম্প্রতিক ‘ম্যান্ডেলসন-এপস্টাইন’ কেলেঙ্কারি। এই কেলেঙ্কারি জনমনে লেবার সরকারের ওপর গভীর অনাস্থা তৈরি করেছে। এছাড়া জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ কাজ করেছে। যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে প্রখ্যাত ভোট বিশেষজ্ঞ জন কার্টিস রয়টার্সকে বলেছেন, লেবার পার্টির জন্য পরিস্থিতি যতটা খারাপ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল, বাস্তবতা তার চেয়েও ভয়াবহ।

এদিকে বামপন্থী এবং পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টিও বড় ধরনের উত্থান ঘটিয়েছে। তারা ইতিমধ্যে ৯০টি আসনে জয়ী হয়েছে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটরাও ৩১৩টি আসন পেয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। এই ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ব্রিটেনের ঐতিহ্যবাহী দ্বিদলীয় ব্যবস্থা ভেঙে একটি বহুদলীয় গণতন্ত্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে দেশটি। কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গত এক শতাব্দীর মধ্যে ব্রিটিশ রাজনীতিতে এটি অন্যতম বড় পরিবর্তন।

লেবার পার্টির সংসদ সদস্যরা ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসের ফলাফল যদি আশানুরূপ না হয়, তবে কিয়ার স্টারমারকে বিদায়ের সময়সূচী ঘোষণা করতে হতে পারে। স্যালফোর্ডের এমপি রেবেকা লং-বেইলি এই ফলাফলকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে বর্ণনা করেছেন। স্টারমার বর্তমানে যে চাপের মুখে রয়েছেন, তা ১৯৯৫ সালে কনজারভেটিভ প্রধানমন্ত্রী জন মেজরের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, যখন তার সরকার একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতা হারিয়েছিল। আপাতত ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের ভবিষ্যৎ এখন সুতার ওপর ঝুলছে।

banner
Link copied!